-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
স্বতন্ত্রে ধরাশায়ী হেভিওয়েটরা
বিগত দুই সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বসা জাতীয় পার্টি বলতে গেলে উড়ে গেছে স্বতন্ত্রের ঝড়ে। উলটে গেছে অনেক তাবড় তাবড় মাঝির নৌকাও।
বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো নির্বাচনে না আসায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এবার ছিল বেশ কাড়াকাড়ি। রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল দলটির। হিসাব-নিকাশ এমন ছিল যেন, নৌকা প্রতীক পেলেই সংসদে এক পা দিয়ে ফেলা। কিন্তু জনতার রায়ে উল্টেপাল্টে গেল অনেকের হিসাব। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ঝড় তুলেছেন রেকর্ড সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী। যেই ঝড়ে ধরাশায়ী অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী; তালিকায় আছেন বর্তমান মন্ত্রী পদস্থ কয়েকজনও।
ব্যারিস্টার সুমনে ধরাশায়ী বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী : এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের ভোটাররা। এদের মধ্যে হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে ব্যারিস্টার সুমনের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ও দুবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।
স্থানীয়ভাবে মোট ১৭৭ ভোটকেন্দ্রের ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সুমন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দুবারের সংসদ সদস্য মাহবুব আলী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৫৪৩ ভোট।
ঢাকা-১৯ এ ট্রাকে পিষ্ট দুই হেভিওয়েটের জনপ্রিয়তা : এরপরই সবচেয়ে বড় চমকের দেখা মিলেছে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে। এই আসনে জয় হয়েছে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের। ধামসোনা ইউনিয়নের সাতবারের নির্বাচিত এই চেয়ারম্যানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী; একজন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান এবং আরেকজন সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ।
এখানকার ২৯২ কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ধামসোনা ইউনিয়নের সাতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ২০২ ভোট। আর বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুর রহমান পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৬১ ভোট।
যশোর-৫ এ তিনবারের এমপির কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিল ঈগল : জয় হাতছাড়া হয়েছে যশোর-৫ আসন থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যেরও।
আসনটিতে বিজয়ীর নাম ইয়াকুব আলীর। ঈগল প্রতীকে লড়েছিলেন তিনি। ফলাফল অনুযায়ী, যশোর জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপকমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আলহাজ মো. ইয়াকুব আলী পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৬৮ ভোট। আর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য পেয়েছেন ৭২ হাজার ৩৯৬ ভোট।
কুমিল্লার উত্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী বর্তমান তিন এমপি : কুমিল্লা জেলাকে রাজনৈতিকভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কুমিল্লা সদর উত্তর ও সদর দক্ষিণ। এর মধ্যে সদর উত্তরে ৫টি সংসদীয় আসন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার সদর উত্তরে ৫টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়েও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বর্তমান তিন সংসদ সদস্য। বাকি দুটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে একজন নতুন মুখ। রোববার রাতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার খন্দকার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে এসব ফলাফল ঘোষণা করেন।
ভোটের লড়াইয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) আসনের বর্তমানে সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী ধরাশায়ী হয়েছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবদুল মজিদের কাছে।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে ভোটের লড়াইয়ে হেরে গেছেন আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পরাজিত হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কাছে।
ময়মনসিংহ-৭ এ ধরাশায়ী রহুল আমীন মাদানী : ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম আনিছুজ্জামানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য রুহুল আমীন মাদানী। এ আসনে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৪ ভোটের মধ্যে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৭১ হাজার ৭৩৮ ভোট। আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৩১ ভোট। এ ছাড়া ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাতীয় পার্টির আবদুল মজিদ ও তৃণমূল বিএনপির ডা. আবদুল মালেকের জামানত।
রংপুর-১ এ শোচনীয় পরাজয় বরণ রাঙ্গার : রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে ব্যাপক ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু। ফলাফল অনুযায়ী, কেটলি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৯২৭ ভোট। আর তার বিপরীতে মসিউর রহমান রাঙ্গা পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৩২ ভোট।
এ ছাড়া জনতার রায়ে হেরে যাওয়া হেভিওয়েটদের তালিকায় আছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ, টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর নামও। অলরাউন্ডার আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায়।
সময়ের আলো/অনলাইন/৯.১.২৪