সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:19 am

জীবনযাত্রা কঠিন হচ্ছে আরও

এই সংবাদ দেখতে আর মন টানল না। চট করে বন্ধ করে দিলেন টিভি। কারণ বছরের প্রথম মাসে বাড়িওয়ালা তার বাসা ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়ে দিয়েছে। বাসা ভাড়ার সঙ্গে গতকাল যেন যোগ হলো বিদ্যুতের দামও।

এমনিতে বাজারে গেলে নিত্যপণ্যের দাম শুনে অনেকটা চিন্তায় পড়তে হয় পকেটের অবস্থার কারণে। আয়ের সঙ্গে যেন ব্যয় কিছুতেই মিলাতে পারেন না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১ বছর আগে যা বেতন ছিল এখনও তাই রয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে সবকিছুর দাম বাড়ছে।

গতকাল বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। আর কয়দিন পর থেকে কার্যকর হলেও, এখন থেকেই যেন এর রেশ শুরু হয়ে গেছে। বিদ্যুতের ইউনিট অনুযায়ী দাম বৃদ্ধির খবর শুনে বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেন পোক্ত করে ফেললেন। এখন তার হাতে অজুহাত এলো-বিদ্যুতের বাড়তি দাম। তবে অনেক স্থানে কার্ড সিস্টেমে ভাড়াটেকে দাম গুনতে হয়। কিন্তু ঘুরেফিরে চলে আসে জীবনযাপনের ব্যয়।


মালিবাগে ভাই ভাই লন্ড্রির মালিক ইউসুফ বললেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে আমাদের কাপড় ইস্ত্রির দামও বাড়াতে হবে। এখন কাপড় প্রতি নেই ১০ টাকা। আগামীতে এর চেয়ে বেশি নিতে হবে। যিনি কাপড় ইস্ত্রি বা ধোলাই করতে দিচ্ছেন তার যেমন ব্যয় বাড়বে, তেমনই ব্যয় বাড়বে লন্ড্রির মালিকের।

ছোট একটি কারখানা রয়েছে আবুলের। তিনি পানির ব্যবসার পাশাপাশি আরও অন্য ব্যবসা করেন। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর খবর শুনে তিনি অনেকটা চিন্তিত। কারণ তার কারখানায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। যে দামে এখন তিনি পণ্য বিক্রি করেন, সে দামে আর বিক্রি করা সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ।
বাসে করে প্রতিদিন অফিস যান সাইফুল। তার কাছে এক খবর এসেছে খুব শিগগির বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ ডিজেল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকা শহর কেন, আন্তঃজেলা পরিবহনও এখন ডিজেলে চলে। আর যদি অকটেনের দাম বেড়ে যায় তা হলে ব্যক্তিগত হোন্ডা থেকে শুরু করে গাড়ির ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। পাঠাও চালান আজম। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এখন যে হারে ভাড়া নেওয়া হয় সে হারে আর হয়তো ভাড়া নেওয়া সম্ভব হবে কিনা জানি না। তখন ব্যয়ের চাপ পড়বে যাত্রীর ওপর। অর্থাৎ চক্রাকারে সবার ওপর এই চাপ আসবে।

শান্তিনগরের তরিতরকারির ব্যবসা করেন আলম। তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ কেন, যদি জ্বালানির দাম বাড়ানো হয় তা হলে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। আর শেষমেশ চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর। বছর না ঘুরতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে অনেকে অবাক হয়েছে। কারণ অনেক কিছু বিদ্যুতের দামের ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করেন। তার কাছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দামের সঙ্গে সবকিছু ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। দোকান ভাড়া থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, শিল্প কলকারাখানার উৎপাদন ব্যয় এবং নিত্যপণ্য সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেবে। যার ফলভোগ করতে হবে কমবেশি সবাইকে। সবচেয়ে নাভিশ্বাস উঠবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের। এ ছাড়াও দরিদ্র মানুষের জীবন আরও নিম্নগামী হবে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সবকিছুর দাম বাড়বে, এ কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনিতে নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মানে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। সামনে রোজা। এই রোজার মাসে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়। আর এই মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। এর ফলে শিল্পের উৎপাদন খরচ থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। এককথায় বলা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। স্বল্প আয়ের মানুষ জীবনব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাবে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।

গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এখন তো মূল্যস্ফীতির হার উচ্চে রয়েছে। এর ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়া হলো। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দাম থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম বাড়বে। কারণ যারা শিল্প উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের পণ্যের উৎপাদনের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়াতে হবে। তবে বিদ্যুৎ যারা যেভাবে ব্যবহার করবে তাদের ব্যয় সেভাবেই বৃদ্ধি পাবে। মোটকথা, জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়ে যাবে।

শাহনেওয়াজ/সময়ের আলো/ ২৮.০২.২০২৪