সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:37 am

সাঙ্গ মিলনমেলা, বিক্রি ৬০ কোটি টাকার বেশি

আর ফেব্রুয়ারি তাই কালক্রমে হয়ে উঠেছে সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। অধিবর্ষ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারির ২৯ দিন বাংলা একাডেমি ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বইমেলা নিয়ে মেতেছিলেন লেখক-পাঠক-প্রকাশকরা। ফেব্রুয়ারি শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে মেলার সময় দু’দিন বাড়ানোও হয়। কিন্তু গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার শোকের প্রভাব পড়েছিল মেলার ওপরেও, যা গতকাল শনিবার মেলার শেষ দিনও বহাল ছিল। তারপরও গত ৩১ দিন কবি-সাহিত্যিক, লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে পাঠকের ভাববিনিময়, মিথস্ক্রিয়ার এই মেলা মিশ্র এক অনুভূতি দিয়েই শেষ হয়েছে। গতকাল শেষ দিনের বইমেলা প্রাঙ্গণে তেমন ভিড় না থাকলেও যারা এসেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল বই। আর রাতে মেলা সাঙ্গ হওয়ার সময় যত ঘনিয়েছে, জমেছে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের তুমুল আড্ডা। সবাই বলেছেন, সব শঙ্কা কাটিয়ে আসছে বছর আবার দেখা হবে।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এ বছরের বইমেলায় গত ৩০ দিনে ৬০ কোটি টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। গত বছর বই বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বেশি। গতকালও মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৯টি। সব মিলিয়ে এ বছর বই প্রকাশিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৩০। এ বছর গল্পের বই এসেছে ৫২১টি, উপন্যাস ৫৪০টি, কবিতা ১ হাজার ২৬২টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৬৯টি, বিজ্ঞানবিষয়ক ৪৪টি, ভ্রমণকাহিনি ৬৪টি, ইতিহাস ৫৫টি, ধর্মীয় ৬২টি ও অনুবাদ ৬১টি। গতকাল বিকেলে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান একাডেমির উপপরিচালক সাহেদ মন্তাজ।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে বেইলি রোডে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এদিকে, সমাপনী অনুষ্ঠানেও আলোচিত হয়েছে আগামী বছর বইমেলা স্থানান্তরের বিষয়টি। এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান বলেন, ‘বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা এখন ঐতিহ্য হয়ে গেছে। এই বইমেলা প্রস্থানের বিষয়ে কথা উঠেছে। আমরা কোনো না কোনো ব্যবস্থা করে বইমেলা এখানে রাখার ব্যবস্থা করব।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস প্রায় চলে গেছে। প্রতি সপ্তাহে শিশুদের একটি ছোট বই হলেও কিনে দিন।’
সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ বলেন, ‘বইমেলার স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের জন্য চেষ্টা চলছে। কোনো একটি স্থায়ী জায়গায় বইমেলা করার কথা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন।’
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘সারা পৃথিবী ঘুরে এসেও এমন একটি বইমেলা খুঁজে পাবেন না। এ বইমেলা আমাদের আবেগের মেলা, জাতিসত্তার মেলা। এই বইমেলা জাতি হয়ে ওঠার বইমেলা, আমাদের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসার বইমেলা।’

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার প্রদান
এ বছর অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকাশনীগুলোর নাম আগেই ঘোষণা করেছিল বাংলা একাডেমি। গতকাল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মূলমঞ্চে এই পুরস্কারগুলো তুলে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ পেয়েছে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার। একই বছর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে মনজুর আহমদ রচিত ‘একুশ শতকে বাংলাদেশ : শিক্ষার রূপান্তর’-এর জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত ‘যাত্রাতিহাস : বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত’ বইয়ের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত ‘কিলো ফ্লাইট’ বইয়ের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হয়। ওই বছর গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খি পেয়েছে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার। এ বছর মেলার স্টলের নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেঙ্গল বুকস (এক ইউনিট), নিমফিয়া পাবলিকেশন (দুই-চার) ও অন্যপ্রকাশ পেয়েছে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার।

সমকাল/অনলাইন/০৩ মার্চ ২০২৪