সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:14 am

হজের মূল কর্মসূচি

সময়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে (স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী) ১৪ জুন শুক্রবার এবং শেষ হবে ১৮ জুলাই সন্ধ্যায়। জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে ১৫ তারিখ শুরু হবে এবং শেষ হবে ১৯ জুন। মূলত হজের মৌসুম তিন মাস-শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ। হজের মূল কার্যক্রম ৫ দিন হলেও এর আগে-পরে আরও অনেক আমল থাকে। হজ পালনকারীদের জন্য এই পাঁচ দিনের ধারাবাহিক আমলের বিবরণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। আট জিলহজ : এদিন দুইটি কাজ করতে হয়- ১. মক্কার হারাম শরিফ বা বাসা বা হোটেল থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়া এবং জোহরের নামাজের আগেই মিনায় পৌঁছা। ২. মিনায় অবস্থান করা। জোহরের নামাজসহ ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব এবং সেখানে অবস্থান করা সুন্নত। নয় জিলহজ : নয় জিলহজকে বলা হয় ‘ইয়াউমে আরাফা’ বা আরাফা দিবস। এ দিন বিশেষ ফজিলতপূর্ণ এবং এ দিনেই অধিক সংখ্যক জাহান্নামিকে মুক্তি দেওয়া হয়। আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় হজের মূল কার্যক্রম। এ দিন চারটি কাজ করতে হয়- ১. ফজরের পর মিনায় গোসল বা ওজু করে সকাল সকাল আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা হওয়া। রওনার সময় তাকবির বলা-‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’। ২. জোহরের আগেই আরাফার ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা। আর এটাই হলো হজের অন্যতম রোকন। ৩. আরাফার ময়দানে অবস্থান করে হজের খুতবা শোনা এবং নিজ নিজ তাঁবুতে জোহর ও আসরের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আলাদাভাবে আদায় করা। তওবা-ইসতেগফার, তাকবির, তাসবিহ, তাহলিল ও রোনাজারিতে আত্মনিয়োগ করা। ৪. সন্ধ্যায় মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হওয়া। মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এক আজানে আলাদা আলাদা ইকামতে একসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আদায় করা। ১০ জিলহজ : হজের প্রধানতম কর্মব্যস্ত দিন। এ দিনে হাজিদের পাঁচটি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়- ১. মুজদালিফায় অবস্থান; মুজদালিফায় সারা রাত খোলা আকাশের নিচে মরুভূমির বালুর ওপর অবস্থান করা। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্য উঠার আগে কিছু সময় অবস্থান করা এবং সূর্য ওঠার আগেই মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়া। ২. পাথর সংগ্রহ; মিনায় জামরায় (শয়তানকে মারার জন্য) মুজদালিফায় অবস্থানের সময় রাতে কিংবা সকালে কংকর সংগ্রহ করা। ৩. কংকর নিক্ষেপ; ১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসেই বড় জামরায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা। আর তা জোহরের আগেই সম্পন্ন করা। ৪. কুরবানি করা; বড় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেই মিনায় কুরবানির পশু জবাই করা। ৫. মাথা মুণ্ডন করা; কুরবানির পরপরই মাথা মুণ্ডন করার মাধ্যমে হজের ইহরাম থেকে হালাল হবেন হাজি। মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করাসহ সব সাধারণ কাজ করতে পারলেও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। ১১ ও ১২ জিলহজ : এ দুই দিন মিলে মোট তিনটি কাজ করতে হয়- ১. তাওয়াফে জিয়ারত; হজের সর্বশেষ রোকন হলো তাওয়াফে জিয়ারত। ১১ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে তাওয়াফে জিয়ারত না করতে পারলে দম বা কুরবানি কাফফারা আদায় করতে হবে। ২. কংকর নিক্ষেপ; ১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন মিনায় অবস্থান করা এবং ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরায় ৭টি করে ২১টি কংকর নিক্ষেপ করা। তবে যদি কেউ কংকর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করেন, তবে তাকে তাওয়াফের পর আবার মদিনায় চলে আসতে হবে এবং মিনায় অবস্থান করতে হবে। ৩. মিনায় রাতযাপন ও ত্যাগ; ১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনার ময়দানেই রাতযাপন করা এবং যারা মিনা ত্যাগ করবেন তারা ১২ তারিখ সূর্য ডোবার আগেই মিনা ত্যাগ করবেন। সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে সে রাত (১৩ জিলহজ) মিনায় অবস্থান করা। উল্লেখ্য, যদি কেউ ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারে কিংবা থাকার ইচ্ছা করে তাকে ১৩ জিলহজ ৭টি করে আরও ২১টি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। বিদায়ি তাওয়াফ : সারা বিশ্ব থেকে আগত সব হজ পালনকারীর জন্য দেশে রওনা হওয়ার আগে পবিত্র কাবা ত্যাগের আগে বিদায়ি তাওয়াফ করা আবশ্যক। তবে জিলহজ মাসের ১২ তারিখের পর যেকোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ি তাওয়াফ হিসেবে আদায় হয়ে যায়। আল্লাহর কাছে কায়মনো বাক্যে প্রার্থনায় ফিরে আসুক পবিত্র কাবার স্বাভাবিক ইবাদতমুখর পরিবেশ।