সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:20 am

তাকবিরে তাশরিকের বিধান

আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর জিকির করো’ (সুরা বাকারা : ২০৩)। আয়াতের তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এখানে নির্দিষ্ট দিনগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য-তাকবিরে তাশরিক পাঠের দিনগুলো।’ (মারিফাতুস সুনান : ১০৮৭২)
তাকবিরে তাশরিক নামকরণের কারণ : তাশরিক শব্দের এক অর্থ হচ্ছে রোদে গোশত শুকানো। এই দিনগুলোকে তাশরিক বলার কারণ হলো আগের যুগে মানুষ এই দিনগুলোতে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের জন্য টুকরা টুকরা করে রোদে শুকাত। তাই এই অর্থের বিবেচনায় এই দিনগুলোকে আইয়্যামে তাশরিক বলা হয়। কোনো কোনো আলেমদের মতে, তাশরিক অর্থ সূর্যোদয়ের আলো। ঈদের নামাজ ও কুরবানির দিনকেও তাশরিক বলা হয়। কেননা ঈদের নামাজ আদায় করা হয় যখন সূর্য ‘তাশরিক’ তথা আলোকিত হয়। এই দিনগুলোতে যে তাকবির পড়া হয় তাকে ‘তাকবিরে তাশরিক’ বলা হয়। (ফাতহুল কাদির : ২/৪৮)
তাকবিরে তাশরিক পড়ার সময় : ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ মুকিম হোক বা মুসাফির, একাকী নামাজ পড়ুক বা জামাতে, ফরজ নামাজে পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা হানাফি মাজহাব মতে ওয়াজিব। এ তাকবির পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পড়তে হয়। এই দিনগুলোর বিতর বা অন্যান্য সুন্নত বা নফল নামাজের পর পড়ার নিয়ম নেই। অবশ্য গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী ঈদের নামাজের পরও পড়তে হবে। (দুররুল মুখতার : ৩/৬৪)
তাকবিরে তাশরিকের বাক্য : পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সালাম ফেরানোর পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। তাকবিরে তাশরিকের বাক্য হচ্ছে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ একবার পড়লেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তিনবার পড়লে সুন্নতের সওয়াব মিলবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৫৬৫১)
তাকবিরে তাশরিক পড়ার পদ্ধতি : তাকবিরে তাশরিক উক্ত পাঁচ দিনে ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পরপরই পড়া ওয়াজিব। সালামের পর নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই তাকবির পড়তে
হবে। কেননা এটা নামাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কেউ যদি তাকবির না পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়
অথবা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথা বলে কিংবা নামাজ পরিপন্থী কোনো কাজ করে ফেলে তা হলে তার
থেকে তাকবির পড়ার বিধান রহিত হয়ে যায় এবং তাকবির না পড়ার কারণে গুনাহগার হয়। (ফাতওয়ায়ে শামি : ৩/৬১-৬৩)