সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:32 am

আর্জেন্টিনার ইতিহাস, কোপার শিরোপা মেসিদের

ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল চরম নাটকীয়তা। দর্শকদের বিশৃঙ্খলার কারণে খেলা শুরু হয় ১ ঘন্টা ১০ মিনিট পর। এরপর ম্যাচ শুরু হলেও প্রথমার্ধে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন জেমস রদ্রিগেজরাই। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি। তার বদলি হিসেবে নামা নিকো গঞ্জালেস এরপর গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এদিকে দুই দুলই দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও আর্জেন্টিনার উপর ছড়ি ঘুরিয়েছে কলম্বিয়াই। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রেখেছে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণ। প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে স্কালোনির শিষ্যরাও গোলের লক্ষ্যে মরিয়া হয়েই লড়াই করেছে। এদিকে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকউই লিড আদায় করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। তাঁর করা এই একমাত্র গোলেই শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি সেভাবে। ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। আলভারেজের শট অল্পের জন্য চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। খেলার ৬ মিনিটে বেঁচে যায় আলবিসেলেস্তেরা। কলম্বিয়ার কর্ডোবার শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। অল্পের জন্য গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় তারা। তার ঠিক চার মিনিট পরে পর পর আক্রমণ চালায় কলম্বিয়া। তবে সে যাত্রায় গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের ২০ মিনিটে সতীর্থের পাস থেকে সরাসরি গোল পোস্টে শট নিয়েছিলেন মেসি। তবে এ যাত্রায় কলম্বিয়াকে বাঁচিয়ে দেন তাদের গোলরক্ষক। তার ৫ মিনিট পরে লিসান্দ্রোকে আঘাত করে হলুদ কার্ড দেখেন কর্ডোবা। ৪৩ মিনিটে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন তাগলিয়াফিকো। বক্সের কাছাকাছি জায়গায় তাকে বাজেভাবে ট্যাকল করায় ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। ফ্রি কিক থেকে বক্সের মধ্যে উড়িয়ে বল মারেন মেসি, সতীর্থের হেড চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দাপট ধরে রাখে কলম্বিয়া। আক্রমণেও উঠেছিলো কয়েকবার। ৫৮ মিনিটে কোনো রকমে বেঁচে যায় কলম্বিয়া। বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে একেবারে প্রতিপক্ষের ডেরায় ঢুকে পড়েন ডি মারিয়া। তার নেওয়া শট কোনো রকমে ঢেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস। লিওনেল স্কালোনিকে সচরাচর মাথা গরম করতে দেখা যায় না। তবে এদিন তিনি মেজাজ হারালেন। কলম্বিয়ার ফুটবলারদের মারকুটে ফুটবল দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন নি তিনি। এরপর খেলার ৬১ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্টে আর মাঠে নামা হবে না মেসির, এটা এক প্রকার নিশ্চিত। চোট পেয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন নিশ্চয় এই কথাটা তার মনে পড়ছিল তার। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে কান্নাভেজা চোখে মাঠ থেকে উঠে গেলেন মেসি। প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে চোট পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তারপর বাকি সময়টা তাকে ভুগতে দেখা যায়। ভালভাবে খেলতেও পারছিলেন না। অবশেষে ৬৬ মিনিটে তাকে উঠে যেতে হলো মাঠ থেকে। এরপরে দেখা যায়, বেঞ্চে বসে কান্না করেছেন অঝরে। মেসি উঠে যাওয়ার পর কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। আক্রমণে উঠেও তার কোনো ফল পাচ্ছিলো না আর্জেন্টনা। ৮৭ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৯১ মিনিটে ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন ডি মারিয়া। বিপক্ষে গোলরক্ষরে ভুলে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ফাঁকা পেয়েও বল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সুযোগ নষ্ট হয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটও শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচগুলোতে এই নিয়ম ছিল না। খেলার ৯০ মিনিট যদি সমতায় শেষ হতো তাহলে সরাসরি টাইব্রেকার দেওয়া হতো। তবে ফাইনাল ম্যাচে সেই নিয়ম নেই। খেলার ৯০ মিনিট শেষে সমতা থাকলে আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে। যার জন্য এই ম্যাচও গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে দুই দল। তবে কাঙ্খিত গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না কোনও দল। অবশেষে সোনার হরিণ নামক সেই গোলটি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে এলো কাঙ্খিত সেই গোল। মাঝমাঠ থেকে লাউতারো মার্টিনেজকে বল বাড়িয়ে দিলেন লো সেলসো। বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান লাউতারো। আর সেই গোলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তুলে আর্জেন্টিনা। সেইসঙ্গে কোপা আমেরিকার ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন এখন আর্জেন্টিনা।