সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

June 30, 2026 11:02 am

আর্জেন্টিনা-স্পেনে চ্যাম্পিয়ন বরণ

আর্জেন্টিনা আর স্পেনবাসী অপেক্ষায় ছিল অধীর আগ্রহে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গত সোমবার (বাংলাদেশ সময়) সকালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা জেতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কয়েক ঘণ্টা আগে জার্মানির বার্লিনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে স্পেন। অলিম্পিক স্টেডিয়াম থেকে সেই উৎসব মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে স্পেনের অলিগলিতে। রাতভর চলে উৎসব।
ব্যতিক্রম ছিল না আর্জেন্টিনায়ও।আর্জেন্টিনায় আগের দিন থেকে চলা উল্লাসের জোয়ারে বাড়তি মাত্রা যোগ করে শিরোপা নিয়ে চ্যাম্পিয়নদের ঘরে ফেরা। হাজারও মানুষ ভিড় করেন বিজয়ীদের বরণে। যদিও আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফাইনালে পায়ে চোট পাওয়া আর্জেন্টাইন খুদেরাজ মিয়ামিতেই থেকে গেছেন। দলের সঙ্গে ফেরেননি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি আর জেরেনিমো রুলি। শেষের তিনজন যোগ দেবেন অলিম্পিক দলে। ফ্লোরিডা থেকে সরাসরি ফ্রান্সের প্যারিসে চলে যাবেন তারা।

বুয়েন্স আয়ার্সে দেশবাসীর সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিতে না পারায় ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা একটি দল এবং একটি পরিবার। অসাধারণ একটি দল। যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এই জাতীয় দলের বর্তমান সমৃদ্ধ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে।’ সেই দলটির বেশিরভাগ অনুপস্থিত থাকলেও উৎসব-উদযাপনে ভাটা পড়েনি। আতশবাজি ফুটিয়ে চারদিক নানা রঙে আলোকিত করে তোলেন আর্জেন্টাইনরা। চার বছরের মধ্যে তৃতীয় বড় শিরোপা জয়, আনন্দটা যেমন বাঁধভাঙা হওয়ার কথা, তেমনটাই ছিল।


মেসিসহ আরও অনেকে না থাকলেও শিরোপা নিয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হন ফাইনাল দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়া তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। তার সঙ্গে তখন কোচ লিওনেল স্কালোনিও ছিলেন। স্প্যানিশরা অবশ্য তাদের উৎসবে দলের সবাইকে পেয়েছে। জার্মানি থেকে স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে ফেরেন আলভারো মোরাতা-লামিন ইয়ামাল-দানি ওলমো-নিকো উইলিয়ামসরা। মাদ্রিদ বিমানবন্দরে স্প্যানিশরা তাদের বরণ করে নেয় নানা আনুষ্ঠানিকতায়। পরে গোটা দল যায় সারসুয়েলা প্যালেসে রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের সঙ্গে দেখা করতে। রাজপ্রাসাদেও ছিল বিশেষ আয়োজন।

সেখান থেকে চ্যাম্পিয়নরা যান স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে দেখা করে দল বেরিয়ে আসার পরই শুরু হয় আসল উৎসব। ছাদখোলা দ্বিতল বাসে চেপে শহর প্রদক্ষিণ করেন চ্যাম্পিয়নরা। পথে পথে তখন ছিল মানুষের ঢল। বাড়ির ছাদ, ব্যালকনি থেকেও হাত নেড়ে এবং পতাকা উড়িয়ে দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন স্প্যানিশরা। অনেকের গায়ের টি শার্টে লেখা ছিল ‘ইউরোপ সেরা’ কিংবা ‘ইউরোপের রাজা’। সত্যিই স্পেন এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের রাজা। সর্বোচ্চ চারবার মহাদেশীয় ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে বিজয়কেতন উড়িয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের পোশাকেও বড় করে লেখা ছিল চার সংখ্যাটা।

চ্যাম্পিয়নদের বিজয়যাত্রা শেষ হয় সিবেলেস প্যালেসে, প্যালেসের চারপাশ তখন জনারণ্য। মোরাতা-ইয়ামালরা সেখানে পৌঁছাতেই ‘চ্যাম্পিয়ন-চ্যাম্পিয়ন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় চারপাশ।