সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:31 am

আমি ক্ষমতায় এলে আর কখনো ভোট দিতে হবে না : ট্রাম্প

আর শুক্রবার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই নভেম্বরে তাকে ভোট দিলে, চার বছর পরপর তাদের আর ভোট দিতে হবে না। তার বক্তব্যের পর মার্কিন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে। খবর ডয়চে ভেলে, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।

কী বলেছেন ট্রাম্প : ফ্লোরিডার একটি অনুষ্ঠানে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘খ্রিস্টানরা বেরিয়ে আসুন এবং এবারের মতো ভোট দিন। আপনাদের আর এটি করতে হবে না।’ অবশ্য এর মাধ্যমে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।


নির্বাচনি প্রচারের এমন এক পর্যায়ে ট্রাম্প এই বক্তব্য দিলেন, যখন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রচারে ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে অভিযুক্ত করে আসছে। তার এই বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ২০২০ সালের পরাজয়কে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার প্রসঙ্গটিও আবার আলোচনায় আসছে।

শুক্রবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে টার্নিং পয়েন্ট অ্যাকশন নামের একটি রক্ষণশীল গ্রুপের আয়োজন করা একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টানরা বেরিয়ে আসুন এবং এবারের মতো ভোট দিন। আপনাদের আর এটি (ভোট দেওয়া) করতে হবে না। আরও চার বছর, আপনি জানেন সব ঠিক করা হবে, এটি ঠিক হবে, আপনাকে আর ভোট দিতে হবে না, আমার প্রিয় খ্রিস্টানরা।’

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘আমি আপনাদের খ্রিস্টানদের ভালোবাসি। আমি একজন খ্রিস্টান। আমি আপনাদের ভালোবাসি। আপনাদের বের হতে হবে এবং ভোট দিতে হবে। চার বছর পরপর আপনাদের আর ভোট দিতে হবে না, আমরা এটি ঠিক করে ফেলব। আপনাকে আর ভোট দিতে হবে না।’

‘আর ভোট দিতে হবে না’ বলতে ট্রাম্প আসলে কী বুঝিয়েছেন, সেটি জানতে চার প্রচারাভিযানের মুখপাত্র স্টিভেন চেউংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে তিনি ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। চেউং বলেন, ট্রাম্প ‘এই দেশকে একত্রিত করার কথা বলছিলেন’ এবং দুই সপ্তাহ আগে তাকে হত্যার চেষ্টার জন্য ‘বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ’কে দায়ী করেছেন।

২০ বছর বয়সি বন্দুকধারী ট্রাম্পের ওপর কেন গুলি চালিয়েছিলেন তার কারণ এখন তদন্তকারীরা বের করতে পারেননি। গত বছরের ডিসেম্বরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি একজন স্বৈরশাসক হবেন। তবে সেটি শুধু ‘প্রথম দিন’, মেক্সিকোর সঙ্গে আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত বন্ধ করতে এবং তেল খনন সম্প্রসারণ করতে। ডেমোক্র্যাটরা এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনায় মুখর হওয়ার পর ট্রাম্প অবশ্য ফক্স নিউজে দেওয়া মন্তব্যটিকে ‘রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলে ট্রাম্প চার বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। মার্কিন সংবিধান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। সংবিধানের এই বিধিনিষেধ নিয়েও ট্রাম্প ব্যঙ্গ করেছেন। মে মাসে ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের এক সমাবেশে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের কথা উল্লেখ করেন। রুজভেল্টই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন। রুজভেল্টের প্রেসিডেন্সির পর প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমার বিধান জারি হয়।

সে সময় ট্রাম্প সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা জানেন, এফডিআর, ১৬ বছর- প্রায় ১৬ বছর-চার মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন। আমি জানি না, আমাদের কি তিন মেয়াদ বিবেচনা করা হবে? নাকি দুই মেয়াদ?’

লোকরঞ্জনবাদী ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কী; তার উত্তর মেলে প্যারিসভিত্তিক স্বনামধন্য জরিপ প্রতিষ্ঠান আইপিএসওএসের জরিপে। ওই জরিপ অনুযায়ী, ৪১ শতাংশ আমেরিকান এমন একজন শক্ত নেতাকে চান, পার্লামেন্ট আর ভোট নিয়ে যাকে ভাবতে হবে না। তাদের ধারণা, এটিই ভালো শাসনপদ্ধতি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এই ৪১ শতাংশকে টার্গেট করেছেন।

বিশ্লেষকরা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা উচিত। সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক অ্যাটর্নি অ্যান্ডু সেইডেল এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য কেবল খ্রিস্টীয় জাতীয়তাবাদের মামলা নয়। তিনি একই সঙ্গে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চান এবং একটি খ্রিস্টান জাতিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চান।