সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:39 am

উত্তরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো শীত। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উত্তরের এই প্রান্তিক জনপদের মানুষদের।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দুই বিভাগে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে। দেশের অন্যত্রও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজমান রয়েছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে কনকনে শীতে দুর্ভোগ বাড়ছে নিম্নআয়ের মানুষের। দুদিনের ব্যবধানে কমেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। সোমবার এই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

এদিন সকালে ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। তবু কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে রিকশা-ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ। এতে করে কমে গেছে তাদের দৈনন্দিন রোজগার। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা কষ্টে দিনযাপন করছে।এ সময় মানুষ বাইরেও বের হচ্ছে কম। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতার্তদের শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে নিম্নআয়ের মানুষগুলো কাজে বের হতে দেখা গেছে।

উত্তরের আরেক জেলা জয়পুরহাটেও জেঁকে বসেছে শীত। প্রতিদিন কমছে দিন-রাতের তাপমাত্রা। তিন দিন ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। সোমবার দিনভর জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। সকালে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে নওগাঁর আবহাওয়া অফিস। এর আগে রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিনে তাপমাত্রাও কমছে। দিনভর হালকা কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে দিনমজুর, কৃষি শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও ক্রমেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে। সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

রাজশাহীতে পৌষের আগেই তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রিতে : পৌষ আসতে বাকি এখনও পাঁচ দিন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমের এই জেলায় তাপমাত্রার পারদও নামছে দ্রুত। ভোরের প্রকৃতিতে দেখা মিলছে কুয়াশার। দুপুর ১২টার আগে বাড়ছে না তাপমাত্রা। আবার বিকালের পর থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীত। সন্ধ্যা থেকে বইছে হিমেল হাওয়া। এতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সোমবার সোমবার ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও সোমবার দুপুর পর্যন্ত তা দেখা পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে ভারী ও হালকা যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। পথে-ঘাটে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চিরচেনা দৃশ্যও চোখে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে শীতের কারণে ছিন্নমূল মানুষের কষ্টও। তবে এরকম আবহাওয়া দুয়েকদিন থাকবে বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। এই মাসের শেষে শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে জানানো হয়।