-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
চীনের জন্য আফ্রিকার দুয়ার খুলে দেবে ট্রাম্পের শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি আফ্রিকার জন্য এক বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। দারিদ্র্যপীড়িত মহাদেশটির বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত উচ্চ রপ্তানি শুল্ক তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে এই সংকটই চীনের জন্য হয়ে উঠেছে কৌশলগত সুযোগ। আফ্রিকার প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ দেখানো চীন এখন এসব দেশকে বিকল্প বাজার ও আর্থিক সুবিধা দিয়ে পাশে টানছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় দেখা গেছে, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার রপ্তানি পণ্যের ওপর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আরও ১৮টি আফ্রিকান দেশের পণ্যের ওপর বসেছে ১৫ শতাংশ শুল্ক। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই শুল্কগুলো ‘পারস্পরিক’ এবং যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের লক্ষ্য করেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বাস্তবে এটি অনেকটাই একতরফা সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, যথাযথ বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে এই শুল্কারোপ করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকাকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। তারা জানিয়েছে, আফ্রিকার বেশির ভাগ অংশীদার দেশের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। দক্ষিণ আফ্রিকান গবেষক নিও লেটস্বালো মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে বিশ্বের নেতৃত্ব হারাচ্ছে। এ অবস্থায় আফ্রিকান দেশগুলো যত কম যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হবে, চীনের জন্য বিকল্প হয়ে ওঠার পথ তত সহজ হবে।
আফ্রিকার বড় ও ছোট দুই ধরনের অর্থনীতির ওপরই পড়ছে শুল্কের প্রভাব। লেসোথোর মতো ছোট দেশের ক্ষেত্রে সহায়তা বন্ধ এবং উপরি ১৫ শতাংশ শুল্কারোপ হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দেশটি ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করেছে।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস শিল্প। আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য লাখ লাখ কার্টন ফল প্রস্তুত করা হলেও, শুল্ক কার্যকর হলে সেগুলোর অনেকটাই অবিক্রীত থেকে যাবে। এ ছাড়া গাড়িশিল্পের মতো অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজমন্ত্রী গওয়েদে মান্তাশে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বেশি শুল্ক বসায়, তবে আমাদের চীনসহ অন্য বাজারে রপ্তানির পথ খুঁজতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন, যুক্তরাষ্ট্র নয়।’
মার্কিন শুল্কারোপে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চীন বলেছে, এই নীতি ‘সব পক্ষের ক্ষতি করবে’ এবং বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জেতে না। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ২০ শতাংশ শুল্ক অস্থায়ী এবং চুক্তি হলে তা আরও কমবে। ১৫ শতাংশ শুল্ক মেনে নিয়েছে জাপান। তবে গাড়ি রপ্তানি খাতে আরও ছাড় চাচ্ছে দেশটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে শেষ মুহূর্তে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চাকরি বাঁচানো।’ অস্ট্রেলিয়া ১০ শতাংশ শুল্কে তাদের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা করছে। কানাডা ২৫ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্কে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে হতাশা জানিয়েছে। ৪৯ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশ শুল্কে নিজেদের পোশাক খাত রক্ষা পাওয়ায় সন্তুষ্ট কম্বোডিয়া।
সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে বাণিজ্য স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে জানিয়েছে তারা। ৪৪ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান ১৯ শতাংশ শুল্ক চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং একে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা বলছে। এর প্রভাবে ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে, যদিও তেলের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।
সমকাল/০২ আগস্ট ২০২৫