-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
৩ বেলা ভাত খেলে যে ক্ষতি হয়
তিন বেলা ভাত খাওয়া অধিকাংশ বাঙালিরই সাধারণ অভ্যাস। দিনের শুরুতে কিংবা দিনের শেষে পেটভরে ভাত খেলে শরীরে যেন এক ধরনের প্রশান্তি আসে। আমাদের দেশে এখনো তিন বেলা ভাত খাওয়ার প্রবণতাই বেশি। বাঙালির ভাত খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা শোনা যায়। কিন্তু এসব মন্তব্য শুনতে নারাজ বাঙালি। এ নিয়ে প্রবাদ বাক্যও আছে, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। তবে কখনো কি ভেবেছেন এটি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নাকি উপকারী? আসুন জেনে নিই—
শক্তির প্রধান উৎস ভাত, এটি জটিল কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ—যা শরীরের জন্য প্রাকৃতিক শক্তি দেয়। এটি রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করে এবং শরীরকে সারা দিন সক্রিয় রাখে। ভাত সম্পূর্ণ ফ্যাটমুক্ত। এছাড়াও ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
অনেকেরই ধারণা, ডায়াবেটিস হলে ভাত একেবারেই বাদ দিতে হবে, আসলে এমন নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ বা ইনসুলিনের মাধ্যমে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখলে ভাত খেতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ১০০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এর পরিমাণ বয়স, লিঙ্গ, ওজন ও উচ্চতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। যাদের শারীরিক পরিশ্রম কম, তাদের জন্য ৬০-৭০ গ্রাম চাল যথেষ্ট। যারা সারাদিন খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করে, তারা ১২০-১৫০ গ্রাম চাল খাওয়া জরুরি।
তবে এর অপকারিতাও আছে বেশ কিছু। অতিরিক্ত ভাত খেলে আপনি পড়তে পারেন স্বাস্থ্যঝুকিতে। যেম—রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, শুধু ভাত-তরকারি-আলুর কারণে পুষ্টির ঘাটতি, অলসতা এবং হজমে সমস্যা।
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ভাত কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও রুটি খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ভাত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যদি পরিমিত পরিমানে গ্রহন করা যায়। সঠিকভাবে নিজের খদ্যাভাস তৈরি করুন এবং সুস্থ থাকুন।
শুধু সাদা চালে ফাইবার কম থাকে। তাই শুধু ভাত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা হতে পারে। যা একটা সময় পরে বড় স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষত্রে সুস্থ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিমিতি বজায় রাখুন, ভাতের ধরন পরিবর্তন করুন -সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস, রেড রাইসে পুষ্টি বেশি। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
আরআর
সময়ের আলো ডেস্ক/৩০ আগস্ট, ২০২৫