-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
উৎপাদন বন্ধ কাতারে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কাতার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই রুটটি সংঘাতের কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাতার এনার্জি (QatarEnergy) তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত এবং এর প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কাতার এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
ইউরোপের বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ডাচ টিটিএফ (TTF) হাবে গ্যাসের দাম সোমবার এক লাফে ১৫.৯৭ ইউরো বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা ৪৭.৯৩ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ২৫ শতাংশ বাড়লেও কাতারের ঘোষণার পর তা ৫০ শতাংশ স্পর্শ করে। এর প্রভাব কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এশিয়ার বাজারেও এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি (Wood Mackenzie) জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে এলএনজি কার্গো পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। আইএনজি (ING)-এর কৌশলবিদ ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করেছেন যে, কাতারের এই সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
বর্তমানে ইউরোপের গ্যাস মজুত কেন্দ্রগুলো প্রায় ৩০ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় কমিশনের গ্যাস কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ আগামী বুধবার এক জরুরি বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হলে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
০৩ মার্চ ২০২৬