সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 2:50 pm

আমৃত্যু ৩০০ টাকায় রোগী দেখবেন ডা. এজাজ

ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। সহজ-সরল প্রাঞ্জল অভিনয়ে বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন তিনি,এখনও ধরে রেখেছেন সেই ধারাবাহিকতা। তার সাবলীল অভিনয়ে প্রায়শই মুগ্ধ হয়েছে ভক্ত-সমর্থকেরা। হাসি-কান্নার মিথস্ক্রিয়ায় অভিনয়ে দারুণ এক ছন্দে ফুঁটিয়ে তোলেন এই অভিনেতা যা বর্তমান সময়ের অভিনেতাদের মাঝে খুব একটা লক্ষণীয় নয়। অভিনয় ছাড়াও ব্যক্তিজীবনে বিখ্যাত একজন ডাক্তার তিনি। সবসময়ই চেষ্টা করেন দেশের অসহায় মানুষগুলোকে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে উত্তম সেবা প্রদানের জন্য।

গুণী এই অভিনেতা একবার ডাক্তার সহকর্মীদের কথা শুনে ভিজিট ফি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অনুভব করেন এত অর্থ ব্যয় করা রোগীদের পক্ষে সম্ভব না। তাই ফিরে গেলেন পূর্বের সেই ৩০০ টাকা ভিজিটেই। কিছুদিন আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতা জানিয়েছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ভিজিটের অর্থ বাড়াবেন না। অসাধারণ এই মানুষটি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসেবে। তার এমন মহানুভবতার কারনে অনেকেই তাকে ‘গরিবের ডাক্তার’ আখ্যা দিয়েছেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশো’তে উপস্থিত হয়েছিলেন এজাজ। সেখানেই তুলে ধরেন ৩০০ টাকার ভিজিটের ফেরার গল্প। এসময় এজাজ বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে আসার পর সেখানকার স্টাফরা আমাকে বললেন, স্যার রোগী দেখতে যে ফি নেন, সেটা খুবই সামান্য। আপনার ভিজিট ফি বাড়ানো উচিত। তাদের কথায় ৩০০ টাকা থেকে ফি ৫০০ টাকা করলাম। দুদিন ৫০০ ফি নেওয়ার পর দেখলাম, অনেক রোগী এই খরচ বহন করতে পারছেন না। পরে আমি আবার ৩০০ টাকা ফি নেয়া শুরু করি। সবাইকে বলে দিই যতদিন বাঁচবো ৩০০ টাকা ফি’তে রোগী দেখবো। আসলে জীবনে বাঁচতে বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। সৃষ্টিকর্তা আমাকে যা দিয়েছেন, এতে আমি খুশি।’

এজাজের ভাষ্যে, টাকার পেছনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ছুটে চলা একটি মানসিক রোগ, যা মানুষের জীবনের প্রকৃত অর্থ ও আনন্দকে ম্লান করে দেয়। সুন্দর জীবনযাপনের জন্য মানুষের খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন কেউ টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি তৈরি করে, তখন এটি নেশায় পরিণত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় এই অভিনেতার শোবিজে আগমন ঘটেছিল কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। ক্যারিয়ারের অন্যতম কিছু কাজ হলো ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’।
এছাড়াও তিনি ‘তারকাঁটা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতার পুরস্কারে ভূষিত হন।