সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 3:10 pm

হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন আজ

বাংলা ভাষায় হুমায়ূন আহমেদ শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে এমন এক বিরল প্রতিভা যিনি শিল্প-সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতে তার মুন্সিয়ানার ছাপ রেখে গেছেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ, গান, ছবি আঁকা সব ক্ষেত্রেই তার হাতের ছোঁয়া ছিল। বাংলা সাহিত্যে তার লেখা একটা নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিল। এই ভিন্ন মাত্রার কারণেই তিনি তার সময়ের সেরা কথাসাহিত্যিক ছিলেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে অনেকে তাকে ব্রিটিশ সময়ের কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের সঙ্গেও তুলনা করে থাকেন।

তবে সাহিত্য রচনার বাইরে তিনি যখন থেকে শোবিজেও পা রাখলেন তখন থেকে শোবিজের চিত্রটাও একদম বদলে দেন তিনি। একটা সময়ে যখন টিভি নাটক, ধারাবাহিক নাটক একই বৃত্তে আটকা পড়েছিল; তিনি টিভি নাটকে হাত দিয়েই টিভি নাটকের সেই স্থবিরতা ভাঙলেন। একটা প্রাণচাঞ্চল্য আনলেন ধারাবাহিক নাটকে। তিনি নাটক, চলচ্চিত্র রচনা ও পরিচালনায় এমন একটা আলাদা রুচির উপস্থাপন করেছিলেন যে, তার নাটকে এবং চলচ্চিত্রে একটি ক্যামিও চরিত্রও অনেক গুরুত্ব পেত। দর্শকের হৃদয়ে দাগ রেখে যেত। প্রতিটি চরিত্রকেই তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে দর্শকপ্রিয় করে তুলতে জানতেন। যে কারণে তার নাটকে বা চলচ্চিত্রে যারাই অভিনয় করেছেন তারাই দর্শকপ্রিয় হয়েছেন। যেটা বাংলাদেশের আর কোনো পরিচালকের মাধ্যমে ঘটেনি। আজও ঘটছে না।

শিল্প ও সাহিত্যের সব শাখাতেই সফল এই ব্যক্তিত্বের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ হয় ১৯৭২ সালে। এরপর তার রচিত তিনশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে ১৯৯৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ূন আহমেদ। এরপর একে একে তার নির্মাণে মুক্তি পায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’ ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘আমার আছে জল’, ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে হুমায়ূন আহমেদ ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ২৪ জুলাই নন্দিত এই লেখকের প্রিয় জায়গা নুহাশ পল্লীতে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।