-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
হামলা পাল্টাচীন-রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া যুদ্ধে জড়াবে?
২১ জুন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ হঠাৎই চিড়ে ফাটল ধরায় এক অদৃশ্য প্রতিধ্বনি। যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ফোর্ডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সরাসরি প্রমাণ করে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে।
‘Fordow is gone’-ট্রাম্পের ঘোষণা, যেন এক প্রতিধ্বনি হয়ে ঘুরে বেড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে। তার আগের বক্তব্য ছিল বিপরীতমুখী-দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা থাকবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় অংশ নেয়, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বৈশ্বিক উদ্বেগ।
হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান জানায়, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক উপাদান আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত। তবুও, এ আঘাতকে তারা ঘোষণা করেছে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ হিসেবে। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের জবাব আসবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
হামলার আগেই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তারা রেড সি-তে মার্কিন ও মিত্র জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করবে। এখন সেই হুমকি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রবল। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের হাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ রয়েছে যা রেড সি-র বাণিজ্য ও সামরিক চলাচলে বড় বিপর্যয় আনতে পারে।
চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া-এই তিন পরাশক্তি এখনো সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ না করলেও কূটনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।” রাশিয়া এই হামলাকে আখ্যা দিয়েছে “উসকানিমূলক সামরিক আগ্রাসন”। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি ইরানের হয়ে যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা দেয়নি। তবুও, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বৃত্তে গুঞ্জন, একটি বৃহৎ প্রতিরোধ জোট গড়ে উঠতে পারে যদি সংঘাত আরও বাড়ে।
এই হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, তা এখন একটি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং হুথিরা রেড সি-তে মার্কিন জাহাজে আঘাত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে আরও কঠোর। আর তখন চীন বা রাশিয়ার সরাসরি জড়ানোর আশঙ্কা প্রকট হবে। সেক্ষেত্রে যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা ছড়িয়ে পড়বে ইউরোপ, এশিয়া, এমনকি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও।
সময়ের আলো ডেস্ক/২২ জুন, ২০২৫