সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:09 am

সমুদ্রপৃষ্ঠের তলদেশ গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে বিলাসবহুল ইয়ট

প্রাগৈতিহাসিক যুগের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে পরিচিত সিলাকান্থ। গভীর জলের এ মাছ মৃত অবস্থায় উপকূলে ভেসে এলেই চোখে পড়ে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে প্রথমবারের মতো ১৫০ মিটারেরও বেশি গভীরে সিলাকান্থকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে জীবিত পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়।

যুগান্তকারী গবেষণাটি সম্ভব হয়েছে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সুপারইয়টের সৌজন্যে, যেটি গবেষকদের বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিয়েছেন এর মালিক। নৌযানটি ফ্লোরিডাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সি-কিপারস সোসাইটি নিবন্ধিত তিন শতাধিক জাহাজের একটি। ওই তালিকায় রয়েছে টাগবোট, ক্যাটামারান, পালতোলা নৌকা, প্রমোদতরী ও মেগা-ইয়ট।

সংস্থাটি সামুদ্রিক গবেষকদের সঙ্গে জাহাজ মালিকদের সংযুক্ত করে, যাতে এমন গবেষণাও সম্ভব হয়, যা সাধারণত অসম্ভব বা ব্যয়বহুল বলে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। চলতি বছরেই সি-কিপারস ২০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক অভিযানে সহায়তা করেছে। অনেক সময় এসব ইয়ট সরকারি গবেষণা জাহাজের চেয়ে দ্রুত ও সহজে এমন সব এলাকায় পৌঁছতে পারে—

যেখানে প্রবেশের জন্য সাধারণত মাসের পর মাস ধরে অনুমতি ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়। আবার এর বিপরীতে ইয়ট মালিকরাও অনেক সময় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় প্রবেশের সুযোগ পান। যেমন গ্যালাপাগোস কিংবা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের পিটকেয়ার্ন আইল্যান্ডস। অবশ্য প্রতিটি ইয়ট মালিকের সহযোগিতার ধরন এক নয়।

অনেকেই ‘সিবেড ২০৩০’ প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রতলের গভীরতার তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। কেউ কেউ কেবল এক-দুদিনের সংক্ষিপ্ত যাত্রায় গবেষকদের সঙ্গ দেন, কেউ আবার কয়েক সপ্তাহের জটিল অভিযানে যুক্ত হন। এসব গবেষণার বিষয়বস্তুও বিচিত্র। গবেষণায় কখনো থাকে তিমি, ডলফিন, হাঙর বা প্রবাল প্রাচীরের মতো আকর্ষণীয় প্রাণী; আবার কখনো এমন তথ্যভিত্তিক ও জটিল প্রকল্প, যা সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হলেও বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যারা ইয়ট ভাড়া দিয়ে আয় করেন, তারাও অনেক সময় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়েও এ গবেষণায় যুক্ত হন।

এ ধারা এখন বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে ইয়টস ফর সায়েন্স একইভাবে ইয়ট ও গবেষকদের সংযুক্ত করছে। এ বছর ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় মান্টা রে পর্যবেক্ষণ ও স্কটল্যান্ডের আউটার হেব্রাইডসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তলদেশ নিয়ে গবেষণায় তারা গবেষকদের পাঠাচ্ছে। ইয়ট বাজার বিশ্লেষক প্লাটফর্ম বোটপ্রোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ২৪ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের উপযুক্ত প্রায় ১৩ হাজার নৌযান রয়েছে। গবেষকদের মতে, এর একটি ক্ষুদ্র অংশও যদি অংশ নেয় তাহলে সমুদ্র গবেষণায় এক নতুন দিক উন্মোচন হতে পারে।

যাযাদি / ২৮ জুলাই ২০২৫

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ