-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরীর যাত্রা শুরু
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরীর যাত্রা শুরু
টাইটানিকের চেয়েও পাঁচগুণ বড় এই প্রমোদতরীতে রয়েছে বিনোদনের এক অনন্য জগৎ। আভিজাত্যের চোখ ধাঁধানো ঝলক। তবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালিত আইকন অব দ্য সিজ থেকে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকারক মিথেন গ্যাস অনেক বেশি নিঃসৃত হবে বলে উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের আইকন অব দ্য সিজের দৈর্ঘ্য ৩৬৫ মিটার (১ হাজার ১৯৭ ফুট)। ওজন ২ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টন। ২০টি ডেকের পাশাপাশি এতে রয়েছে ৭টি সুইমিং পুল, ৬টি ওয়াটার স্লাইড। এ ছাড়াও তরীটির সবচেয়ে ওপরের ডেকে আছে ৪০টির বেশি বার, রেস্তোরাঁ, লাউঞ্জ এবং বিনোদনস্থল। বিশাল এই তরী ৭ হাজার ৬০০ জন যাত্রী ধারণে সক্ষম। ২ হাজার ৩৫০ জন ক্রুর জন্য রয়েছে আলাদা থাকার বন্দোবস্ত।
প্রমোদতরীটি রয়্যাল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন। এর সামনের দিকে আছে ‘অ্যাকোয়াডোম’।
সেখানে দেখা যাবে জলপ্রপাত। আরও আছে পাঁচ ডেক উঁচু ও খোলা সেন্ট্রাল পার্ক। তাতে রয়েছে সাঁতারুর ভাস্কর্য এবং অনেক গাছপালা। ‘থ্রিল আইল্যান্ড’ নামে বিশালাকার ওয়াটার পার্কও আছে এতে। এরপর
আছে ‘সার্ফসাইড’ নামে একটি পারিবারিক এলাকা। সরাসরি সমুদ্রের দৃশ্য দেখার জন্য আছে ‘রয়্যাল প্রমেনেড’। ‘দ্য হাইডওয়ে’তে ইনফিনিটি পুলও রয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের কয়েক ডজন কেবিন আছে আইকন অব দ্য সিজে। আর ৭০ শতাংশ কক্ষের সঙ্গেই আছে বারান্দা। যেখানে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের অন্তহীন নীল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। তাদের বিনোদন দেওয়ার জন্য ৫০ জন সংগীতশিল্পী এবং কমেডিয়ানও আছে এই তরীতে।
এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী ছিল রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ‘ওয়ান্ডার অব দ্য সিজ’। সেটিকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী হলো আইকন অব দ্য সিজ। ওয়ান্ডার অব দ্য সিজ ছিল ১ হাজার ১৮৮ ফুট দীর্ঘ, আর ওজন ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টন।
২০২২ সালের এপ্রিলে ফিনল্যান্ডের মেয়ার তুর্কু শিপইয়ার্ডে এই প্রমোদতরী তৈরির কাজ শুরু হয়। সেখান থেকেই এর ট্রায়াল রান হয়েছে। সেই পরীক্ষায় কয়েকশ মাইল পথ ভ্রমণ করেছে আইকন অব দ্য সিজ।
মায়ামি থেকে পশ্চিম ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত চলবে এই প্রমোদতরী। ক্যারিবিয়ান সাগরের পূর্ব ও পশ্চিম পথ ধরে এক সপ্তাহের সফরে থাকবে এটি। এই সাত রাতের মধ্যে এক রাতে বাহামায় রয়্যাল ক্যারিবিয়ান সংস্থার একটি দ্বীপে অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হবে। সাত রাতে ইস্টার্ন ক্যারিবিয়ানের এই সফরে বেশ কয়েকটি স্থানে ভ্রমণ করা যাবে।
পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ : ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের (আইসিসিটি) মেরিন প্রোগ্রামের পরিচালক ব্রায়ান কোমার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভুল পথে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, এলএনজিকে মেরিন ফুয়েল হিসেবে ব্যবহারের ফলে এ থেকে মেরিন গ্যাস তেলের চেয়ে আনুমানিক ১২০ শতাংশ বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ ঘটাতে পারে।
সময়ের আলো/অনলাইন/২৯.১.২৪