সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 2:00 pm

ভুয়া উপ-সচিবের খপ্পরে ২ ডজন শিক্ষক, খুইয়েছেন ৪ কোটি টাকা

মো. আসাদুজ্জামান মানিক ওরফে লুৎফর রহমানকে (৪৭) ও তার সহযোগী আব্দুল গফফার ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে সাইফুলকে (৭৭)। তারা এমপিওভুক্তি ও নব নিয়োগপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ানদের বেতন ভাতাদি নিয়মিত করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় দুই ডজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৪ কোটি টাকার বেশি প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। প্রতারণার দায়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তাদের কাছে গ্রেফতার হয়েছেন দুর্ধর্ষ এই দুই প্রতারক।

পিবিআই সূত্র জানায়, বরগুনা সদরের পূর্ব হাজার বিঘা বটতলা সিনিয়র মাদরাসা এমপিওভুক্ত হলেও কয়েকজন শিক্ষকের বিল আটকা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল মো. আব্দুস সালাম অনেক চেষ্টা ও তদবির করছিলেন শিক্ষকদের বিল করানোর জন্য। তদবিরের খবরে নিজে থেকে যোগাযোগ করেন মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের উপ-সচিব ও প্রোগ্রাম অফিসার পরিচয়ে দেন গ্রেফতার দুজন। সমস্যা সমাধানের জন্য লুৎফর ও সাইফুলের কাছে ২০২১ সালে কয়েক দফায় মোট ১৪ লাখ টাকা দেন শিক্ষকরা। সেই টাকা পাওয়ার পর প্রিন্সিপাল আব্দুস সালাম তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে দেখেন ফোনটি বন্ধ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার পর সন্দেহ হলে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন জুবায়ের বা আসাদুজ্জামান মানিক এবং আব্দুল গফফার বা সুমন চৌধুরী নামে কেউ নেই মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরে।

পরে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পরেছেন। শুধু প্রিন্সিপাল আব্দুস সালাম-ই নন, এমন প্রতারণা করেছেন সারাদেশে অন্তত দুই ডজন শিক্ষকের সঙ্গে। ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা। কেউই টাকা ফেরত পাননি। প্রতারণার শিকারদের একজন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছিল পিবিআই।

মামলার তদন্তের সূত্র ধরে জুবায়ের ওরফে মো. আসাদুজ্জামান মানিক ওরফে লুৎফর রহমানকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ২টায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার ফলগাছা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী আব্দুল গফফার ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে সাইফুলকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) একটি দল।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি শিক্ষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতারক চক্রটির খপ্পরে পড়েছেন ভোলা চরফ্যাশনের কুচিয়ামোড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার মো. কামরুজ্জামানসহ আছলামিয়া হামেলা খাতুন বালিকা দাখিল মাদরাসা, দক্ষিণ চরফ্যাশন শামছুল উলুম দাখিল মাদরাসা, আমিনাবাদ হাকিমিয়া দাখিল মাদরাসা, আছলামপুর মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদরাসা, দক্ষিণ আছলামপুর মোবারক আলী দাখিল মাদরাসা, কুন্ডের হাওলা রাশিদীয়া দাখিল মাদরাসা, নূরাবাদ হোসাইনীয়া ফাজিল মাদরাসা, লালমোহন ইসলামীয়া কামিল মাদরাসা, উওর চরমানিকা লতিফীয়া দাখিল মাদরাসা এবং পূর্ব ফরিদাবাদ ইউনূসীয়া জিহাদূল উলূম দাখিল মাদরাসার শিক্ষক, প্রিন্সিপাল ও সুপাররা প্রতারিত হয়েছেন বলে জেনেছি। এর বাইরে আরও অনেক ভুক্তভোগী আছেন।

সময়ের আলো/১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪