সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 6:02 am

অলিখিত ফাইনালে ইতিহাসের হাতছানি

নিজের দেশের বিপক্ষে জয়ের ছক আঁকতে ব্যস্ত টাইগার কোচকে সংবাদ সম্মেলনেও বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে। খোলামনেই জানিয়ে রাখলেন, সিরিজ জিততে মুখিয়ে তার শিষ্যরা। তাতে যে ইতিহাস গড়া হবে, সেটাও ভুলেননি তিনি।

সিলেটে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৩ রানে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে একপেশে জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তাই তৃতীয় ম্যাচটা দাঁড়িয়েছে অলিখিত ফাইনাল। আজ সেই ফাইনালে বিজয়কেতন উড়ানো গেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ মিলবে। এই সংস্করণে অতিথিদের বিপক্ষে এ পর্যন্ত পাঁচটি জয় এলেও আগের তিন সিরিজে সবথেকে বড় প্রাপ্তি ১-১ সমতা। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হওয়া টাইগাররা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে সবশেষ সিরিজেও ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়। মাঝে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ১-১ সমতা নিয়ে ঘরে ফেরে তারা।

মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা যা পারেননি, তরুণ অধিনায়ক শান্ত এবার ইতিহাস বদলাতে পারবেন কি না সেই হিসাব মিলে যাবে আর কয়েক ঘণ্টা পর। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহে অবশ্য বেশ জোর গলায় বলে গেলেন, ‘আমরা ইতিহাসটা বদলানোর দ্বারপ্রান্তে আছি।’ টাইগার কোচ আরও বলেন, ‘আমরা সিরিজটা জেতার মতো অবস্থানে আছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যাচটা জেতা। ম্যাচটা যেহেতু দিনে, আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তা হলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে জেতার। তবে এটাও বলব, শ্রীলঙ্কা খুবই ভালো টি-টোয়েন্টি দল। যাই হোক, আমরা নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সিরিজে এখন ১-১ সমতা থাকলেও বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখতে হবে। প্রথম ম্যাচে দুইশর বেশি রান টপকাতে গিয়ে লক্ষ্য প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল টাইগাররা। বলতে হবে ভাগ্যের কাছে হেরে যেতে হয়েছে। জাকের আলী-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের চেষ্টার কমতি ছিল না সেই ম্যাচে। অনেকটা বাদের তালিকায় থাকা মাহমুদউল্লাহ যে বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়েছেন তাতে খুশি স্বয়ং হাথুরু, ‘সে অনেক অভিজ্ঞতা যোগ করেছে। যেভাবে সে বিপিএলে খেলেছে, আমাদের সবাইকে দেখিয়েছে সে কতটা পরিপক্ব। এখন সে অনেক স্বাধীনতা নিয়ে খেলছে। আমি তাকে যখন (ওয়ানডে) বিশ্বকাপে দেখেছি, সে নিজের খেলা নিয়ে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিল। এখনও খুব সুন্দর খেলছে।’

বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা জাকের শুধু হাথুরু নন, জয় করেছেন দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মনও। অভিষেকেই এতটা অভিজ্ঞ ঠিক কবে দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট? দল হারলেও ম্যাচটিতে বড় প্রাপ্তি ছিল জাকের আলির রেকর্ড ছয় ছক্কা আর ৩৪ বলে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হাথুরুসিংহে, ‘সে কী করতে পারে, তা দেখে খুব ভালো লাগছে। আমি তার খেলা খুব বেশি দেখিনি। শুধু এবারের বিপিএলেই দেখেছি।’ বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ‘ফিনিশার’ হয়ে ওঠা জাকের জাতীয় দলেও সেই ভূমিকা পালন করায় মনে ধরেছে হাথুরুসিংহের, ‘সে খুবই শান্ত। এটাই চোখে পড়েছে এবারের বিপিএলে। এই জিনিসটা খুব ভালো লেগেছে। এই একটা গুণ আপনার দরকার, যখন আপনি পাঁচ-ছয়-সাতে ব্যাটিং করবেন। কারণ বেশিরভাগ সময় আপনাকে কিছু কাজ করতে হবে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে। সে যা করেছে, তা দেখতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’