সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 8:13 am

মরা প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিধান


 পশু-পাখি খাওয়া যাবে তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে কুরআন-হাদিসে। যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল, সেগুলো আল্লাহর নামে জবাই হওয়াও অন্যতম একটি শর্ত। আল্লাহর নামে জবাই করা হয়নি, এমন কোনো পশু-পাখির গোশত খাওয়া জায়েজ নয়। অতএব কোনো প্রাণী যদি মারা যায় কিংবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা হয়, সেই প্রাণীর গোশত খাওয়া বৈধ হবে না।

দেশে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে মরা মুরগির গোশত বিক্রির খবর শোনা যায়। হোটেল-রেস্টুরেন্টে এসব মরা মুরগি সাপ্লাই দিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক মানুষ মরা মুরগির গোশত খেয়ে চলছে দিনের পর দিন। এটা নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ।

যেসব প্রাণী কোনো দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে বা মৃত্যুবরণ করেছে সেসব প্রাণী খাওয়া মুসলমানদের জন্য হালাল নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণীর গোশত, প্রবহমান রক্ত, শূকরের গোশত, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাইকৃত প্রাণীর গোশত, শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, আঘাতে মৃত জন্তু, পড়ে গিয়ে মৃত জন্তু, অন্য পশুর শিংয়ের আঘাতে মৃত জন্তু, হিংস্র পশুর খাওয়া জন্তু। তবে এরকম প্রাণীকে যদি তোমরা মরার আগে জবাই করে থাকো তা হলে হালাল হবে। আর হারাম করা হয়েছে ওই পশু, যা পূজার বস্তুর কাজে জবাই করা হয়।’ (সুরা মায়েদা : ৩)


অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে-আমরা যারা হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে যাই, আমরা তো জানি না হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের মরা মুরগির গোশত নাকি জবাই করা মুরগির গোশত খাওয়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এর দায়ভার কার? এ জন্য গুনাহগার কে হবে? হোটেল মালিক নাকি কাস্টমার? ইসলাম বলে, এ ক্ষেত্রে মরা মুরগি বিক্রেতা ও হোটেল মালিক দায়ভার নেবে। তাদেরই গুনাহ হবে। কারণ তারা জেনেশুনে কাস্টমারের সঙ্গে প্রতারণা করে অপরাধ করছে।

আর পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘কেউ কারও অপরাধের দায় নেবে না’ (সুরা নাজম : ৩৮)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা আমলনামায় যুক্ত হবে, কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলেও সে তার প্রতিদান পাবে’ (সুরা জিলজাল : আয়াত ৭-৮)।

তা ছাড়া প্রতারক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে হাদিসে বলা হয়েছে-‘নবীজি (সা.) বলেন, এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কী হতে পারে, তুমি মানুষের সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নেবে অথচ লোকেরা তোমাকে বিশ্বাস করে’ (সহিহ মুসলিম)। অন্য হাদিসে আছে, ‘কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহাঅপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত হবেন। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করবে, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত’ (তিরমিজি : ১২১০)।

অতএব বোঝা যায়, মরা মুরগি বিক্রেতা ও যারা এগুলো মানুষকে জেনে-বুঝে খাওয়াচ্ছে কেয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে অবশ্যই অপরাধী হবে তারা। তবে কাস্টমারদের সচেতন থাকতে হবে। যারা জানতে পারবেন এবং বুঝতে পারবেন যে, এই হোটেলে মরা মুরগি কিংবা আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা প্রাণীর গোশত খাওয়ানো হয়, তা হলে সেই হোটেলে খাওয়া থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ সবাইকে হালাল খাওয়া ও হারাম থেকে বিরত থাকার তওফিক দিন।