সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 8:11 am

দিনাজপুরে 'বাঁশের চালে' রান্না হচ্ছে ভাত-পায়েস

 বীজ। অভাব অনটনের মাঝে পরিবারের খাবারের চাহিদা পূরণে ধানের বিকল্প হিসাবে বাঁশ ফুলের বীজ থেকে দানা সংগ্রহ করে চাল উৎপাদন করছে।
এতে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের পাকাপান গ্রামের কৃষি শ্রমিক সানজু রায়। এই দানা দিয়ে প্রস্তুতকৃত চাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে রুটি, ভাত, পায়েস, খিচুরিসহ অনেক কিছু। যা নিজের পরিবারের খাওয়ার পাশাপাশি বিক্রিও করছেন। সানজু রায় ওই গ্রামের কৃষক ছিমল রায়ের ছেলে।
সানজু রায় বলেন, কৃষক পরিবারের ছেলে আমি। কাজ না থাকায় অভাব দুর করতেই বাপ-দাদের কাছ শোনা গল্পের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই বাঁশ থেকে চাল উৎপাদন শুরু করেছি। বাড়ীতে এখন ৭/৮ বস্তায় বাশেঁর ফুলে বীজ সংগ্রহ করা আছে। যা সারা বছর চালের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন সানজু রায় বিভিন্ন বেরুয়া বাঁশ বাগান থেকে বাঁশের ফুলের বীজ সংগ্রহ করছেন। এদিকে বাঁশ চাল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে চান সানজু সে লক্ষ্যে চেয়েছেন সরকারি সহযোগিতাও।
সানজু রায়ের বাবা-মা বলছেন, বাড়ির পাশের ঝাড় থেকে এসব বাঁশের ফুলের বীজ সংগ্রহ করছে সানজু। সেই বাঁশের ফুলের বীজ পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে সেগুলো ধানের হাসকিং মিলে ছাটাই করে চাল তৈরি করা হয়। এই বাঁশের চাল প্রস্তুতকরণে আমরা পুরো পরিবার এখন ব্যস্ত।
এই চালের ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানান, বাড়ির উঠানে প্রস্তুতকৃত এমন কয়েকটি বীজের বস্তা রাখা আছে। কিছু দানা ভাঙিয়ে রেখেছেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেকেই তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব চাল থেকে রান্না করা হচ্ছে রুটি, ভাত, খিচুরিসহ পায়েসও। সাধারণ চালের মতই এর স্বাদ বলে দাবী করছেন সকলেই। বাঁশের ফুল থেকে চালের মতো উৎপাদন করার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিরল এই ঘটনার দেখতে ও চাল কিনতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন।
এলাকাবাসীরা বলছেন, বাঁশের বীজ থেকে দানা সংগ্রহ করার বিষয়টি প্রথমে ছেলেমানুষি ভেবেছিলাম। পরে তাঁর এই দানা সংগ্রহ দেখে তাজ্জব বনে যাই! বর্তমানে তাঁর এই উৎপাদিত দানা অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন সাঞ্জু রায়।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান বলেন, এটি দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার পাকাপান গ্রামের প্রথম বাশেঁর ফুলের বীজ থেকে চাল পাওয়া যাচ্ছে। ধান ও বাঁশ একই প্রজাতি হওয়ায় বাঁশের ফুলের বীজ থেকে চাল পাওয়া যায়। ভারতের কয়েক প্রদেশে বাণিজ্যিকভাবে বাঁশের ফুলের বীজ থেকে চাল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। প্রাকৃতিক ভাবেই যে বাঁশ ঝাড়ের বয়স ৩০ বছরের অধিক সেই বাঁশ ঝাড় একবার বাশেঁর ফুল দিয়েই মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, বাঁশ থেকে উৎপাদিত চালের ঘটনা বিরল হলেও অনেকের দাবী বাঁশে সাধারণত ফুল না হলেও প্রজাতিভেদে ২৫ থেকে ৬০ বছর পরে ফুল আসতে পারে। ফুল আসা মানেই ওই বাঁশের জীবনচক্র শেষ হওয়া। বাঁশফুলটা দেখতে অনেকটা ধানের বীজের মতো। এটি মূলত ইঁদুরের প্রিয় খাবার বলে জানালেন এই কৃষি কর্মকর্তা।