সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 11:57 am

ডিমের দামে ডিগবাজি

ডিমের দাম হালিতে ১০ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যা উঠে এসেছে সরকারি প্রতিবেদনেও। যদিও পূর্বের মতোই দাম বৃদ্ধির জন্য খামারিরা দোষারোপ করছেন ব্যবসায়ীদের আর ব্যবসায়ীরা খামারিদের। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দাম বেঁধে দিয়ে নিশ্চিতে ঘুমোচ্ছেন। ক্রেতাদের হাঁসফাঁস দেখার যেন কেউ নেই, বলছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গত এক মাসে ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকায়। আর টিসিবির বাজারদর বলছে, প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এক মাস আগে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে হালিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকা। কারওয়ান বাজারে ডিম কিনতে আসা জোবায়ের বলেন, ডিমের দাম কখন বাড়ে আর কখন কমে বোঝা যায় না। গত সপ্তাহে ডিম নিয়ে গেলাম ৪৮ টাকা হালি আজকে ডিমের দাম চাচ্ছে ৫৫ টাকা। এক সপ্তাহেই ৭ টাকা বেড়ে গেল। শুনেছি সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ওটা শুধু শুনেই গেছি। কখনো বাজারে পাইনি। আরেক ক্রেতা শহিদ। পেশায় রিকশাচালক। হজক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা কাঁচাবাজার থেকে এক হালি ডিম কিনেছেন। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, যে আয় করি তা দিয়ে কোনোমতে দিন চলে। মানুষ এখন রিকশায় বেশি যায় না। তাই আয়ও কম। মাছ-মাংসের দাম অনেক বেশি। ওগুলো কিনতে পারি না। এ জন্য মাঝে মাঝে ডিম কিনি। সেটার দামও এখন অনেক বেড়ে গেছে। এ জন্য ডিম কেনাও কমিয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয়। ক্ষুদ্র খামারিরা যখন ডিম উৎপাদন করে তখন তারা দাম কমিয়ে দেন। আবার যখন খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দেন তখন তারা দাম বাড়িয়ে দেন। এসএমএসের মাধ্যমে করপোরেট চক্র ডিমের দাম বাড়িয়ে থাকেন। ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গরমকে দায়ী মনে করেন তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমে খামারিদের লাখ লাখ মুরগি মারা গেছে। যে কারণে ডিমের প্রায় ৩০ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা সোলায়মান মিয়া বলেন, পাইকারিতে একটি ডিম কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকা করে। এর থেকে আমাদের সামান্য কিছু লাভ করতে হচ্ছে। এখন বেশি দামে কিনে তো আর কম দামে বিক্রি করতে পারি না। তবে পাইকারিতে যদি কম দামে ডিম পাই তা হলে আমাদের কম দামে বিক্রি করতে কোনো সমস্যা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি হিসেবে গোলাম রহমান বলেন, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। তদারকি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কোথায় কোন কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তা দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কারণে ডিমের দাম বাড়ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। ডিমের পাশাপাশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২৫ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি।