সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 10:49 am

বাজেয়াপ্ত ১২ উড়োজাহাজ এক মাসের মধ্যে নিলাম

বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এগুলো বাজেয়াপ্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিমানবন্দরে পড়ে ছিল। আগামী ১ মাসের মধ্যে এগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হবে। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করবে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। পরিত্যক্ত এয়ারলাইন্সের মধ্যে আটটি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের, দুটি রিজেন্ট এয়ারওয়েজের, একটি জিএমজি এয়ারলাইন্সের, একটি অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের। সবগুলো এয়ারলাইন্সেরই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদের মধ্যে ইউনাইটেড এয়ার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। কিন্তু উদ্যোক্তা পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বেবিচক ও শাহজালাল সূত্র জানায়, গত মাসের ২৬ তারিখে এগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়। এগুলো নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিলামে বিক্রির গ্রাহক না পেলে এগুলো কেজি দরে বিক্রি করা হতে পারে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে কার্গো এরিয়ায় আমদানি-রফতানি বাড়বে। এ ছাড়া যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সংখ্যাও বাড়বে। এ জন্য প্রচুর জায়গা দরকার। তাই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই এ উড়োজাহাজগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। ইতিমধ্যে ১২টি উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষের অ্যারোড্রামস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন শাখা। শনিবার দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিত্যক্ত এসব উড়োজাহাজ সরিয়ে নিতে বেবিচক থেকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হলেও সংস্থাগুলো থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তাই এগুলো বাজেয়াপ্ত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গোর সামনের অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন ধরে ১২টি উড়োজাহাজ ও আনুষঙ্গিক মালামাল অব্যবহৃত, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো অপসারণ করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উড়োজাহাজগুলো অপসারণ করার বিষয়ে অদ্যাবধি কোনোরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। ফলে রফতানি কার্গো এলাকায় নিয়মিত বা অনিয়মিত ফ্লাইটের পার্কিং, উড়োজাহাজে মালামাল বোঝাই ও যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি পার্কিংয়ের জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে নতুন বা অনিয়মিত কার্গো ফ্লাইটের অনুমোদন প্রদান, বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সার্বিক এভিয়েশন কর্মকাণ্ড এবং দেশের রফতানি উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে শুধু এভিয়েশন কার্যক্রমই নয় বরং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তথা বাংলাদেশ সরকার কার্গো ফ্লাইট এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার রাজস্ব থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪-এর ৩৩০ বিধির ২ নম্বর বিধি অনুযায়ী এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হয় এবং উল্লিখিত এয়ারলাইন্সগুলো বা অপারেটর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে উল্লিখিত উড়োজাহাজসহ আনুষঙ্গিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টস পার্কিং এরিয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যা আনুমানিক ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ স্কয়ার ফুট জায়গা দখল করে রয়েছে। এই জায়গা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো অপসারণ করা হলে আনুমানিক ১২টি বে-পার্কিং প্রস্তুত করা যাবে। পার্কিং বে-গুলো ব্যবহার করতে না পারার দরুন দৈনিক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক আয় ও রাজস্ব থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বঞ্চিত হয়ে আসছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৪টি এমডি-৮৩, ১টি এ-৩১০-৩২৫, ১টি এটিআর ৭২-২০২, ১টি এটিআর ৭২-১২, একটি ড্যাশ-৮, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি ড্যাশ-৮, অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজ লিমিটেডের একটি এএন-২, জিএমজি এয়ারওয়েজের ১টি এমডি-৮২ মডেলের এয়ারক্রাফট। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, গত মাসের ২৬ তারিখে পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলো নিলামে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, বাজেয়াপ্ত করা ১২টি উড়োজাহাজ নিলামে বিক্রি করা হবে। প্রক্রিয়া ১ মাসের মধ্যে শুরু হবে। এর জন্য একটা কমিটি গঠন করা হবে।