-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
বাংলাদেশের বিদায়, সেমিফাইনালে ভারত
শনিবার (২২ জুন) অ্যান্টিগায় স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ভারতের দেওয়া ১৯৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের ব্যাটার না। আর এই জয় নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো ভারত।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে তাদের দল যখন ১৯৬ রানের পাহাড় গড়ল, টিম বাংলাদেশও বুঝে গিয়েছিল-ভারতের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের চার সাক্ষাতের মতো এবারও পরাজয় নিয়তি।
আগে তবুও লড়াই গড়া গেছে। সবশেষ দুই (২০১৬ ও ২০২২ আসরে) দেখায় তো টাইগাররা হেরেছে জিততে জিততে। বেঙ্গালুরুতে অবিশ্বাস্যভাবে তিন বলে দুই রানের সমীকরণ মেলাতে না পারা এবং অ্যাডিলেডে বৃষ্টি আর আম্পায়ারদের বিমাতাসুলভ আচরণে ৫ রানে হেরে যাওয়া আজও যন্ত্রণা দেয় সমর্থকদের।
কিন্তু শনিবার রাতের ম্যাচটি ডুবিয়ে গেল লজ্জায়। এই লজ্জা অসহায় আত্মসমর্পণের, বোলিংয়ে দেদার রান বিলানোর আর দুর্বোধ্য ব্যাটিংয়ে হারের বহু আগেই হেরে বসার। অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যাটিং এদিনও আলোয় ফেরেনি। উল্টো বোলিংটাও এবার ডুবেছে অন্ধকারে। ম্যাচটা সম্ভবত টসের পরই হেরে গিয়েছিল টিম বাংলাদেশ, টস জিতেও যখন আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার আশা ছিল ছন্দে থাকা বোলাররা ভালো কিছু করবেন, ১৫০-১৬০ রানের মধ্যেই বেঁধে রাখবেন তারকাসমৃদ্ধ ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে। সে আশায় গুড়েবালি। রোহিত (২৩), কোহলির (৩৭) আগ্রাসী সূচনা, তাদের সঙ্গে ঋষভ পন্তের (৩৬) তাল মেলানো, শেষে শিভম দুবে (৩৪) আর ম্যাচসেরা হার্দিক পান্ডিয়ার (৫০) ধ্বংসলীলা, শান্তর প্রত্যাশা ছাপিয়ে বহুদুর যাওয়া ভারত পায় দুইশ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ।
ভারতের ওই রানের পাহাড় টপকে যেতে পারে, তাড়া করতে নেমে এমন সম্ভাবনা ক্ষণিকের জন্যও জাগাতে পারেনি টিম বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান ৩১ বল খেলে করেছেন ২৯ রান, তিন ছক্কায় শান্ত ৩২ বলে ৪০; জাসপ্রিত বুমরাহ (২/১৩), কুলদীপ যাদবদের (৩/১৯) দারুণ বোলিংয়ের ফাঁকে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, সাকিব, জাকের আলীদের দ্রুত আসা-যাওয়া বুঝিয়ে দিল-আসলে এই বাংলাদেশও ১৫০-১৬০ রানের বেশি তাড়া করার সামর্থ্য রাখে না! টেনেটুনে এদিন ১৪৬ পর্যন্ত গেছে তারা, সেটাও শেষবেলায় রিশাদ হোসেন তিন ছক্কায় ১০ বলে ২৪ রানের ঝড় তুলেছিলেন বলেই।
এদিনের ৫০ রানের হারটাকে তাই যদি টিম বাংলাদেশের সামর্থ্যের পূর্ণচিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, সম্ভবত খুব বড় ভুল তাতে হবে না। প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিবের ৫০ উইকেট প্রাপ্তি, আরও একবার রিশাদের জোড়া উইকেট শিকারও বড় করতে পারেনি সামর্থ্যের পরিধি। তরুণ পেসার তানজিম অবশ্য একই ওভারে কোহলি আর সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে ভিন্ন বার্তাই দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট তো আর দুয়েকজনের খেলা নয়, কিছু ব্যতিক্রম বাদে এখানে জয় মেলে দলীয় পারফরম্যান্সে। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টাইগাররা দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারল কই?
সুপার এইটে টিম বাংলাদেশ যে বেশিকিছু করতে পারবে না, তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। গ্রুপের গণ্ডি পেরিয়ে এসে লক্ষ্য পূরণে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে এই লঙ্কান বলেছিলেন-সামনে যা পাওয়া যাবে তা বোনাস। কিন্তু বোনাস হিসেবে এমন অসহায় আত্মসমর্পণের লজ্জা পেতে হবে, তা অনেকেরই ভাবনার চৌহদ্দিতে ছিল না। দূরতম ভাবনায় না থাকলেও বাস্তবতা আসলে এমনই। সেটা বুঝেই দেশ ছাড়ার আগে প্রত্যাশায় লাগাম টানতে বলেছিলেন শান্ত। ফিরে এসে তিনি হয়তো বলবেন-আমি তো আগেই বলেছিলাম…!
অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে শান্তর দলের এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ, আফগানিস্তানের বিপক্ষেবাকি ম্যাচটা এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।