সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:33 pm

প্রোটিয়াদের কাঁদিয়ে এক যুগ পর বিশ্বজয় ভারতের

বল ছুটল মিডউইকেট অঞ্চলে। কেউ না ধরলেও ওটা যে বাউন্ডারি সীমা পর্যন্ত সবাই। গেলেও ক্ষতি ছিল না। কেননা রোমাঞ্চকর ফাইনালের সমাপ্তি টানা বলটি ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। আবেগ ধরে রেখে সেটা সারলেন হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর হাঁটু মুড়ে বসে পড়লেন, রোহিত শর্মা তখন ঘাসের ওপর মুখ গুঁজে শুয়ে। কাঁদছিলেন ভারত অধিনায়ক, পান্ডিয়াও। শুধু এই যুগলই নন, অপরাজিত থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ঋষভ পন্ত, জাসপ্রিত বুমরাহ, সূর্যকুমার যাদবরাও আনন্দাশ্রু আটকাতে পারেননি। কাঁদছিলেন ডেভিড মিলারও। পর্দার অন্তরালে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরের আরও অনেকেই অশ্রু ঝরিয়েছেন হয়তো। তবে তা বেদনার।

সাতবারের ব্যর্থ চেষ্টা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল তারা। দারুণ খেলে জাগিয়েছিল আজন্মের আক্ষেপ ঘোচানোর সম্ভাবনা। আসরজুড়ে নিষ্প্রভ থাকা হেনরিখ ক্লাসেন এমনভাবে জ্বলে উঠেছিলেন যে, অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে নিশ্বাস দূরত্বেই ছিল প্রোটিয়ারা। অবিশ্বাস্যভাবে সেই দূরত্বই ঘোচাতে পারলেন না মিলার-জানসেন-রাবাদা-মহারাজরা। ক্রিকেটে তারা যে সত্যিকারের ‘চোকার্স’-তা এবার সর্বান্তঃকরণেই মেনে নেওয়াউচিত দক্ষিণ আফ্রিকার!

টিম ইন্ডিয়া সাতমাস আগেই নিজেদের মাটিতে হেরেছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই আক্ষেপ মিটল নিজ থেকে বহুদূরের মাটিতে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বার্বাডোজের কড়া রোদের নিচে আরেকবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত।
১৩ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। হোক ভিন্ন ফরম্যাটে। তবুও ভারতের পাশে এখন বিশ্বসেরার স্বীকৃতি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের হিসেবে অপেক্ষাটা ১৭ বছর।

শনিবার (২৯ জুন) বার্বাডোজের কেনিংটন ওভালে ফাইনালের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়াদের ১৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দেয় ভারতীয়রা।

শুরুর ৫ ওভারেই ভারত হারিয়েছিল ৩ উইকেট। পাওয়ারপ্লেতে কেশব মহারাজের ওভারে দুই উইকেট। আর দুই ওভার বিরতি দিয়ে ৩ রানে ফিরলেন সূর্যকুমার যাদব। সেখানেই ভারতের ব্যাটিং ইউনিটের ভরাডুবি দেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু বিরাট কোহলি আর অক্ষর প্যাটেল যেন ছিলেন ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনায়। দুজনের ব্যাট থেকে এলো ৫৪ বলে ৭২ রানের কার্যকরী এক জুটি।

বার্বাডোজে অক্ষর খেললেন মনে রাখার মতোই ঝকঝকে এক ইনিংস। কুইন্টন ডি ককের থ্রোতে রানআউট হওয়ার আগে ৩১ বলে করলেন ৪৭ রান। শিভাম দুবের জন্য মঞ্চ তৈরি করেই রেখেছিলেন এই অলরাউন্ডার। কোহলিও ততক্ষণে ছুটছিলেন ফিফটির পানে। দুবে কোহলির সঙ্গে করলেন ৩৩ বলে ৫৭ রানের জুটি। কোহলি পেলেন আসরের প্রথম ফিফটি।

ফিফটির পরেই কোহলি হলেন আরও বেশি বিধ্বংসী। ইনিংসের একটা পর্যায়ে টানা ৩৭ বল বাউন্ডারির দেখা পাননি কোহলি। ৪৮ বলে আসে তার পঞ্চাশ রান। এরপরেই খেললেন নিজের চেনা রূপে। ৫০ থেকে ৭৬ যেতে খেললেন মোটে ৮ বল। আউটও হয়েছিলেন সেই বড় শট খেলার তাগিদ থেকে। মার্কো জানসেনের বলে কাগিসো রাবাদার হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস।

কোহলির উইকেটের পর খুব একটা বাকি ছিল না ইনিংসের। ভারতও সেটা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেনি। ভারতের ইনিংসের শেষ ১৩ বলে আসলো ১৩ রান। ৭ উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারত পেল ১৭৬ রানের পুঁজি।

১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক পর্যায়ে ম্যাচ নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এলেও স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়ে ম্যাচ হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নির্ধারিত ২০ ওভারে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করতে পারে তারা। শেষ চার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য দরকার ছিল মোটে ২৬ রান। কিন্তু বুমরাহর করা ১৮তম ওভারে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে আর রান-বলের ব্যবধান ঘুচাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই শিরোপা জিতেছিল ভারত। ১৭ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা জিতল তারা।