সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:17 am

সিরাজগঞ্জে বন্যায় ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি

পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত ৬ ঘন্টায় যমুনা নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫ টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ছাড়াও গবাদি পশুপাখি রাখার স্থান ও গো-খাদ্য, স্যানিটেশনসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আইসিটি রোজিনা আক্তার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, বন্যার প্রভাবে এ পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলার ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চলতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, ভিটামিন ট্যাবলেট, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও নিরাপদ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলী ও কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় । গত ১ সপ্তাহ ধরে চরাঞ্চলের অনেকেই পানিবন্দি হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বন্যার পানি উঠে তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন অনেক শ্রমিক। এই প্রতিবেদককে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক জলিল শেখ, আবুল হোসেন, ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের শাহ আলম, তাইজুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

অনেকেই বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানিতেই বসবাস করছেন। এমনকি চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারগুলো পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এখানকার মানুষের হাট-বাজার করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ৬ ঘন্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুইদিন ধরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী তিন-চারদিন পানি কমবে। এরপর আবারও পানি বাড়তে পারে। এতে ভারী বন্যার সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, চলতি বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ এখন পানির নিচে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যায়নি।