সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 3:50 pm

৫৮ বছর বয়সে অভিষেক!

খেলোয়াড়রা সাধারণত এই বয়সের বেশ আগেই অবসরে চলে যান। সাধারণ মানুষও তো এই বয়সে চলে যান অবসর জীবনের দ্বারে। অথচ এই বয়সেও দাপটের সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলে চলেছেন চাইনিজ বংশোদ্ভূত চিলিয়ান খেলোয়াড় তানিয়া। প্যারিসে নিজের প্রথম অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে তার এমন বিলম্বিত অভিষেক।

জন্মসূত্রে চীনের নাগরিক তানিয়া। ১৯৮৯ সালে তিনি জন্মভূমি ছাড়েন, ২৩ বছর বয়সে পাড়ি জমান দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে। টেবিল টেনিস কোচের চাকরি নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি নিজেও খেলে গেছেন। কিছু দিন পরই অবশ্য অবসর নিয়ে নেন। চিলিতেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। বৈবাহিক সূত্রেই বদলে যায় তার নাম। জেং জিয়াং থেকে হয়ে যান তানিয়া জেং। এরপর ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তবে টেবিল টেনিস থেকে দূরে থাকেননি, কোচিং চালিয়ে গেছেন নিয়মিত।

করোনাকালে হঠাৎ তানিয়ার ইচ্ছে জাগে খেলায় ফেরার। অবসর ভাঙেন, ফিরে আসেন কোর্টে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে যাত্রা করেন নতুন করে। চেষ্টা করে গেছেন নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে। সেটারই ফল পেয়েছেন। গত বছর সান্তিয়াগোতে আয়োজিত প্যান আমেরিকান গেমসে নারী এককে জেতেন ব্রোঞ্জ। ফিরে পান আত্মবিশ^াস। ৫৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও বুঝতে পারেন- চাইলে এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে পারবেন। সেই ভাবনা তাকে নিয়ে গেছে প্যারিস অলিম্পিকে।

অলিম্পিকে শুরুটা ভালো হয়নি। গত শনিবার বাছাই পর্বে লেবাননের মারিয়ানা সাহাকিয়ানের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছেন। তবুও এই বয়সে অলিম্পিকের মতো মঞ্চে খেলতে পেরেছেন, এতেই মহাখুশি জেং। কণ্ঠে উচ্ছ্বাস নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘৩০ বছর পর আমি আবারও টেবিল টেনিসে ফিরেছি। এই বয়সে অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় আমি নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’

জন্ম চীনে হওয়ার পরও মানসিকভাবে নিজেকে এখন পুরোপুরি চিলিয়ান মনে করা তানিয়া আরও বলেছেন, ‘কখনো ভাবিনি অলিম্পিকে খেলব। ভাবার মতো বয়সও ছিল না। নিজের আনন্দের জন্য আবার খেলতে শুরু করেছিলাম। জিততে শুরু করার পর উৎসাহ বেড়ে যায়। আরও ম্যাচ জেতার নেশা পেয়ে বসে আমাকে। তারপরও ভাবিনি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারব। এই বয়সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না।’

অবশ্য তানিয়াই প্যারিস অলিম্পিকের সবথেকে বেশি বয়সি অ্যাথলেট নন। টেবিল টেনিসেই লুক্সেমবার্গের নি জিয়ালিয়ান অংশ নিয়েছেন ৬১ বছর বয়সে, গড়েছেন রেকর্ড। চার বছর পর ওই রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তানিয়ার হাতে থাকছে। যদিও আরেকটি অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন তিনি আর দেখছেন না। তবে এটা জানিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে- শরীর যতদিন সায় দেবে, ততদিন খেলা চালিয়ে যাবেন। বয়স তার কাছে কোনো বিষয়ই না!