-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
স্বচ্ছতা রেখে এগোবেন ফারুক
বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। নিজের জায়গা থেকে কখনো অনিয়ম করেননি। ২০১৩ সালে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে বিতর্কিত দ্বিস্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি করা হলে সেটি মানতে না পেরে ছাড়েন দায়িত্ব। এরপর লম্বা সময় ক্রিকেট বোর্ডের ধারেকাছেও ছিলেন না ফারুক আহমেদ।
অবশেষে সেই ফারুকের কাঁধেই উঠল গোটা ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন আত্মগোপনে থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার ফারুককে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব। দুপুরে দায়িত্ব নিয়ে বিকালে তিনি হাজির হন বিসিবি কার্যালয়ে। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন একগাল হাসি নিয়ে। শখানেক গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে প্রশ্ন নেওয়ার সুযোগ না পেলেও চেষ্টা করেছেন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়ার। ফারুক শুরুতেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন নিজের ভাবনার কথা। এরই ফাঁকে জানিয়েছেন, কাজে স্বচ্ছতা রেখেই এগিয়ে যাবেন।
অতীতে দল নির্বাচনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে নির্বাচকদের। দল নির্বাচনে বোর্ড প্রধানের হস্তক্ষেপও দেখা গেছে। ফারুক নিজেও ভুক্তভোগী। এ কারণেই তার স্পষ্ট বার্তা, ‘আমি সবাইকে এই বার্তা পরিষ্কারভাবে দিতে চাই-আমি যদি দেশ ও দলের কথা চিন্তা করি, তখন কিন্তু অন্য জায়গাগুলো গৌণ হয়ে যাবে। এ পছন্দের, ও পছন্দের, এটি কমে যাবে।’ তার মতে, দল ও দেশকে প্রাধান্য দিলে অনেক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব, ‘সবার আগে আমি যদি চিন্তা করি, আমি বাংলাদেশি এবং পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আমার দল, তা হলে কিন্তু আমরা অনেক সমস্যা থেকে বের হতে পারব। তখন এখানে কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ থাকবে না। তখন কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা থাকবে না। দেখবেন সব ঠিকঠাক হবে। তার মানে আমাদের দেশ এবং আমাদের দল সবার আগে।’
সংবাদ সম্মেলনে কথা উঠে জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে নিয়েও। নির্বাচক থাকাকালীন ফারুকের সঙ্গে বনিবনা হয়নি তার। এবার বিসিবি সভাপতি হয়ে কোচকে নিয়ে ভাবনা কী? এমন প্রশ্নে ফারুক বলেছেন, ‘হাথুরুসিংহের সঙ্গে চুক্তিটা কী, সেটি আমি ঠিক জানি না। আমি আগের জায়গাই আছি। আমি যা বলেছি, সেটি থেকে সরে যাইনি। এখন আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জিনিস দেখতে হবে। কীভাবে কী করা দরকার, তার চেয়ে ভালো কাউকে পাই কি না বা কাছাকাছি যারা ভালো করতে পারবে-এটি দেখব, তারপর কথা বলব। আমি আসলে ওই স্ট্যান্ড থেকে সরিনি।’ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসান। এই অলরাউন্ডার বলেছিলেন, এই সময়টায় বেছে বেছে খেলবেন। তবে ফারুকের কথায় যে ধারণা পাওয়া গেল তাতে সামনের দিনগুলো কঠিন হয়ে পড়বে সাকিবের জন্য। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘সাকিবের ব্যাপারে পলিসি কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করব। সাকিব এখন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থা সে চালিয়ে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের এখন দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। তারপরে কী হবে, সেটি তখন বোর্ডের একটা পলিসির ব্যাপার হবে। এখন যদি বোর্ড থেকে বলে দেওয়া হতো যে তাকে (সাকিব) দলে নেব না, তা হলে সেটি পলিসির ব্যাপার হতো। তখন সেই দায়টা বোর্ডের ওপর আসত। সাকিব বাইরে ঘুরে ঘুরে খেলতে পারবে কি না, সেটি একটা ব্যাপার। সেটি আমরা ভালোভাবে দেখব।’
সাকিবকে নিয়ে কড়া কথা বললেও তামিম ইকবালকে নিয়ে বেশ আশার কথা শুনিয়েছেন ফারুক। বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে থাকা তারকা ওপেনারকে সব ফরম্যাটে আরও দুই থেকে তিন বছর খেলার পরামর্শ দেন তিনি। আর যদি না খেলেন, তবে তাকে বোর্ডে স্বাগত জানিয়েছেন, ‘খুব ভালো হয় যদি ও খেলতে পারে। আর যদি খেলতে না পারে, বোর্ডে আসে তা হলে আমি খুব খুশি হব। কারণ, আপনি দেখেন, তামিম আমার অন্তত বিশ বছরের ছোট হবে; যদি বেশি না হয়। কাছাকাছি হয়তো। সে সাবেক অধিনায়ক, তার মানে তার লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে। আপনি যদি আমাকে বলেন, আমি দেখতে চাই তামিম আরও দুই-তিন বছর খেলবে। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত।’