সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 11:54 am

খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬ গেট খুলে দেয়া হয়েছে। রোববার (২৫ আগস্ট) নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর গেট খুলে দেয়া হলো। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ বাঁধের গেট খোলার সময় নির্ধারণ করা থাকলেও খোলা হয়নি। গেট খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এটিএম আবদুজ্জাহের বলেন, রোববার সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দেয়া হয়েছে। কাপ্তাই লেকে পানির স্তর বিপদসীমা অতিক্রম করছে। তাই বাঁধের গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

১৬ গেট বা স্পিলওয়ে দিয়ে আগে থেকে সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক করে পানি ছাড়া হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। আর ১৬ গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলার পর অতিরিক্ত ৯ হাজার কিউসেক বেশি পানি ছাড়া হচ্ছে। বাঁধ খোলার পর সব মিলে সেকেন্ড ৪১ হাজার কিউসেক করে পানি ছাড়া হচ্ছে। এতে খুব বেশি প্রভাব পড়বেনা। ইতিমধ্যে আমরা বাঁধের গেট খোলার বিষয়টি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন স্তরে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

পিডিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে আসা ঢলে কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। লেকে পানির স্তর ১০৯ (মিনস সি লেভেল) পৌঁছলে গেট খোলা ছাড়া বিকল্প নেই। শনিবার সকালে পানির লেভেল ১০৭ এমএসএলে পৌঁছায়। বিকালে ১০৮ এমএসএলে পৌঁছে। রাতে ১০৯ এমএসএলে পৌঁছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার বাঁধের ১৬ গেট খোলা হয় খুব সীমিত পরিসরে।

এদিকে কাপ্তাই বাঁধ খোলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা স্ট্যাটাস দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের বরাত দিয়ে সংবাদ ছড়িয়েছে ফেসবুকজুড়ে। স্ট্যাটাসের নিচে অনেকে কমেন্ট করে সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন আল্লাহ আমাদের রহম করো। একজন আরেকজনকে ফোন করে জানতে চাইছে গেট খুললে কোন এলাকা কতটুকু তলিয়ে যাবে। পিডিবির কর্মকর্তারা গেট খোলার সংবাদে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ কিছুটা বাড়বে মাত্র। গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটবেনা।

এদিকে কাপ্তাই বাঁধের গেট খোলার সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রামজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, রাউজান উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। ডুবে যেতে পারে নিচু এলাকার সড়ক অবকাঠামো। ১৯৫৭ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৯৬২ সালে। ভারি বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পেলে প্রায় সময় গেট খুলে দেয়া হয়। এই কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিট চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। বর্তমানে কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ভাল থাকায় পাঁচটি ইউনিট চালু আছে। এসব ইউনিটে প্রতিদিন ২১৭ থেকে ২২০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।