সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 9:40 am

হলিউডের রুপালি জগতে মেসির অভিষেক

সাফল্য ও অর্জনের সবটাই ভক্ত–সমর্থকদের জানা। ফুটবলের বাইরেও মেসির জগতটা একেবারে ছোট নয়। ব্যবসা–বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে এলএমটেন। আর্জেন্টিনার মহাতারকার চোখ এবার হলিউডের রুপালি জগতে। ওয়েব সিরিজ থেকে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সিনেমা, সবকিছুতেই বিনিয়োগ করবে মেসির প্রযোজনা সংস্থা।

বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার সেই সংস্থার নাম ‘৫২৫ রোজারিও’। বোঝাই যাচ্ছে, নিজের জন্মস্থানের নামেই খুলেছেন নিজের প্রযোজনা সংস্থা। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপনী ভিডিও সবই বানাবে মেসির সংস্থা। শুধু সাবেক বার্সেলোনা তারকার জন্য নয়, সারা বিশ্বের যে কোনও বিখ্যাত ক্রীড়াবিদের জন্যই প্রযোজনার দায়িত্ব নেবে এই সংস্থা।

জানা গেছে, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্মাগলার এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ‘৫২৫ রোজারিও’। স্মাগলার এন্টারটেইনমেন্ট এরই মধ্যে মেসিকে নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছে। যার নাম ছিল, ‘Messi’s World Cup: The Rise of a Legend’ এবং ‘Messi Meets America’। যা অ্যাপেল টিভি প্লাসে দেখার সুযোগ রয়েছে।


এদিকে বলা হচ্ছে, প্রিমিয়াম এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টিভি অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র, লাইভ স্পোর্টস এবং কমিউনিটি প্রোগ্রাম তৈরি করবে। নিজের নতুন অভিযান নিয়ে মেসি বলছেন, ‘বিনোদন আমার কাছে সব সময়ই আকর্ষণের জায়গা। সেটা ফুটবল মাঠে হোক বা তার বাইরে। নতুন সংস্থা নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত। ভবিষ্যতে একে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ ৩৭ বছর বয়সী তারকা এখন খেলেন আমেরিকার ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। সেখানে একটি অফিস খুলছেন মেসি। পাশাপাশি হলিউডের শহর লস অ্যাঞ্জেলস থেকেও সংস্থা চালানো যাবে।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে ঘোষণা দিয়ে নতুন হাইড্রেশন ড্রিংক (জলযোজন পানীয়) বাজারে আনেন লিওনেল মেসি। সেসময় বিবৃতিতে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত। আমি একজন মালিক হিসেবে বিনিয়োগ করেছি। এমন কিছু আমি আগে কখনোই করিনি।’ বিবৃতিতে এই পানীয় যুগান্তকারী এবং অন্য নন–অ্যালকোহলিক ব্র্যান্ডের চেয়ে একেবারে আলাদা বলেও উল্লেখ করা হয়। গত ২৪ জুন পানীয়টি প্রথম বাজারজাত করা হয় যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডায়।

এছাড়াও নানা ধরনের ব্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দূত হিসেবেও বিপুল পরিমাণ আয় করেন মেসি, যেখানে অ্যাডিডাস ও পেপসিকোর মতো নামী ব্র্যান্ডও আছে। অ্যাডিডাস ২০১৭ সালে মেসির সঙ্গে আজীবনের জন্য চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে পেয়ে থাকেন এলএমটেন। এছাড়া ক্রিপ্টো ফার্ম সোসিওস ডটকম থেকে বছরে ২ কোটি এবং সৌদি ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ থেকে বছরে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি পেয়ে থাকেন মেসি।

আর ব্যবসায়ী হিসেবে মেসি এরই মধ্যে নিজের কাপড়ের ব্র্যান্ড চালু করেছেন। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে মেসি স্টোরও। এর আগে ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে প্লে টাইম স্পোর্ট–টেক নামের ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন মেসি, যে প্রতিষ্ঠান খেলাধুলায় নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া হোটেল ব্যবসাসহ আরও বেশ কিছু ব্যবসা আছে মেসির।