সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 9:08 am

থার্টিফাস্ট নাইট: পর্যটকদের উল্লাসে মুখর কক্সবাজার

ইংরেজি পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। সমুদ্র সৈকতে শীতের ছোঁয়ায় রাতের মৌনতার মাঝে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে নতুন বছরের পরিকল্পনা আর পুরনো বছরের স্মৃতি রোমন্থন করা মহাআনন্দের। আজ ৩১ ডিসেম্বর চলতি বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে এবং ২০২৫ সালকে স্বাগত জানাতে পর্যটকেরা সৈকতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। এবারও কক্সবাজারে থার্টিফাস্ট নাইট উৎসবের অভাবেও পর্যটকদের ঢল।

থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে উম্মুত্ত স্থানে প্রশাসনের কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা নেই। যার ফলে সৈকত এবং অন্যান্য খোলা স্থানে অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও কনসার্ট বন্ধ থাকবে। তবে তারকামানের হোটেলগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রাম আয়োজন করছে। যেখানে অতিথিরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ ডিনারের মাধ্যমে থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন করতে হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক এবং বিশেষ মেহমান ব্যতীত এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের প্রবেশ করার তেমন সুযোগ নেই।

এদিকে, থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটকের চাপ বাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক মালিক পক্ষ আশা করছেন, এবার থার্টিফাস্ট উপলক্ষে কক্সবাজারে পাঁচ লাখেরও বেশী পর্যটকের সমাগম হবে তাদের বিশ্বাস।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর থার্টিফাস্ট নাইট উদ্যাপন উপলক্ষ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার লোকারণ্য হয়ে ওঠেছে। এবারও থার্টিফাস্ট এবং বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে পাঁচ লাখেরও বেশী পর্যটক সমাগম হবে। উম্মুত্ত আয়োজন না থাকলেও মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে এতে করে এখন পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব ফিরেছে বলে অভিমত পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের।

সৈকতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সাগরপাড়ে যেদিকে তাকাই সেদিকেই মানুষ আর মানুষ। সৈকতে এসে পর্যটকরা বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছে। বেশির ভাগ নারী-পুরুষ সমুদ্রের পানিতে নেমে গোসলে ব্যস্ত। অনেক পর্যটক বালুচরে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, কেউ সৈকতে সাজানো ছাতায় বসে শীতল হওয়া উপভোগ করছেন, কেউ জেট স্কিতে চড়ে ঘোরাঘুরি করছেন, কেউ ঘোড়া ও বিচ বাইক নিয়েও ছুটতে দেখা যায়। সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে দিতে দায়িত্ব পালন করছে তিন শতাধিক পেশাদার আলোকচিত্রী।

পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধ্যা পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্ট, হিমছড়ি, দরিয়া নগর, পাটুয়ার টেক, ইনানী, রামু বৌদ্ধবিহার সহ দর্শনীয় স্থানগুলো। সমুদ্রে মানুষের আনাগোনা যতো বাড়ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে লাইফগার্ড কর্মীদের কর্মতৎপরতা। সৈকতের এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে ছুটে যাচ্ছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। হোটেল মালিক সূত্রে পাওয়া, শহরে পাঁচ শতাধিক হোটেল রিসোর্ট গেস্টহাউস কটেজের কোনো কক্ষ খালি নেই। বুকিং না দিয়ে চলে আসায় অনেকে এখন একটি কক্ষে গাদাগাদি করে পাঁচ-সাতজন করে থাকছেন।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এখন পর্যটন মওসুম তার উপর কয়েকদিন পরেই থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজারে এখন পর্যটকে ভরপুর। এবারে সব মিলিয়ে ৫লাখেরও বেশী পর্যটক আসবে বলে আশা করা যায়।

কক্সবাজারে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ঢাকার পর্যটক দম্পত্তি আবদুস সালাম ও শবনম মুশতারি জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকে হোটেল বুকিং করেছি। প্রতিবারই এ সময়টা পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসি। এবারে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে খুব মজা হবে। উম্মুত্ত কোন আযোজন না থাকলেও হোটেলে অনুষ্ঠানমালা যোগ দেবো বলে জানান তিনি। সিলেট থেকে ৫বন্ধু মহসীন, জুবায়ের, ইমন, মহসীন, আলমগীর বলেন, থার্টি ফাস্ট পালন করতে কক্সবাজার বেড়াতে আসা। সৈকতে মানুষের কোলাহল খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন পর্যটন স্পট গিয়েছি। থাকবো আরো বেশ কয়েকদিন।

মেরিন ড্রাইভ সড়কের মারমেইড ইকো-টুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী বলেন, তারকা শিল্পীদের নিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটের উৎসব আয়োজন করছে মারমেইড কর্তৃপক্ষ। রিসোর্টের অতিথি ছাড়াও পর্যটকদের উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সায়মন বীচ রিসোর্টের হিসাব ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান নূর জানান, বিদেশি ও ইনহাউজ অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে বিশেষ ডিনার এর ব্যবস্থা, যেখানে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারনে বাইরের অতিথি থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠান দেখতে পাবেনা।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নূর সোমেল বলেন, গতবারে মত এবারো থার্টি ফার্স্ট ও বর্ষবরণে আমরা ইনডোর আয়োজন করা হচ্ছে। থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষ্যে একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছি আমরা। যেহেতু ইনহাউজ প্রোগ্রাম তাই নিরাপত্তার খাতিরে বাইরের কোন গেস্ট প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তা ছাড়া আতশবাজি, পটকাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন স্থানের বারও বন্ধ রাখা হবে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভ্রমণে এসে কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে সৈকতে ঘুরতে পারেন। বিশেষ করে থার্টিফাস্ট নাইটের দিন কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরের প্রতিটি মোড়ে তল্লাসী করা হবে বলে জানান।

জাবেদ আবেদীন শাহীন, কক্সবাজার
যায়যায়দিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৪