
-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
ইংল্যান্ড কুপোকাত, আফগানদের রূপকথার গল্প
আরও একবার আইসিসির মঞ্চে ব্রিটিশ বধ করলো আফগানিস্তান। সবশেষ করেছিল ২০২৩ সালে দিল্লিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডিতে। এদিন আফগানিস্তান আগে ব্যাট করতে নেমে ইব্রাহিম জাদরানের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে। জবাব দিতে নেমে জো রুটের সেঞ্চুরির পরও ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রানের বেশি করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
৮ রানের হারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসর থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। আগের ম্যাচে তারা ৩৫১ রান করে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এই ম্যাচে ৩২৫ রান তাড়া করেও পারল না জিততে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের সেমিফাইনাল খেলার আশা বেঁচে রইলো। শেষ ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে শেষ চার নিশ্চিত করতে পারবে।
রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। ১৯ রানে ফিল সল্ট (১২) ও ৩০ রানের মাথায় ফিরেন জেমি স্মিথ (৯)।
সেখান থেকে বেন ডাকেট ও জো রুট ৬৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের দুজনের ব্যাটে ভর করে স্বপ্ন দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ৯৮ রানের মাথায় আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ব্যক্তিগত ৩৮ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ১৩৩ রানের মাথায় ফিরেন হ্যারি ব্রুকও (২৫)।
সেখান থেকে রুট ও জস বাটলার টানতে থাকেন ইংল্যান্ডের ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজন ৮৩ রানের জুটি গড়ে স্বপ্ন দেখান। কিন্তু ২১৬ রানের মাথায় বাটলার ফিরেন ২ ছক্কায় ৩৮ রান করে।
সঙ্গী হারাতে থাকলেও রুট ছিলেন নির্ভিক। তিনি দারুণ টেম্পারামেন্ট দেখিয়ে ৯৮ বলে ১০ চারে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরি। তার ব্যাটে আশা দেখছিল ইংলিশ সমর্থকরা। কিন্তু ২৩৩ রানে লিয়াম ভিলিংস্টন (১০) ফেরার পর ২৮৭ রানের মাথায় আউট হন রুট। যাওয়ার আগে ১১১ বলে ১১টি চার ও ১ ছক্কায় ১২০ রানের ইনিংস খেলে যান।
রুট ফিরে গেলে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনাও কমে যায়। তবে জোফরা আর্চার ও জেমি ওভারটনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। জাগে জয়ের সম্ভাবনাও। ৩০৯ রানের মাথায় ওভারটন আউট হয়ে যাওয়ার পর সম্ভাবনা বলতে গেলে নাই হয়ে যায় ইংলিশদের। এরপর ৩১৩ রানে আর্চার ও ৩১৭ রানে আদিল রশিদের আউটের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসের যবনিকাপাত ঘটে।
বল হাতে আফগানিস্তানের সেরা ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তিনি ৯.৫ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ৫টি উইকেট নেন। যা ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তার প্রথম ফাইফার। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ৮ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন ফজলহক ফারুকি, রশিদ খান ও গুলবাদিন নায়েব।
তার আগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইব্রাহিম জাদরান ১৪৬ বলে ১২টি চার ও ৬ ছক্কায় রেকর্ড ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। যা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। অবশ্য ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। ১১ রানেই ফিরেন মারকুটে ব্যাটসম্যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ (৬)। ১৫ রানের মাথায় আউট হন সেদিকুল্লাহ অটল(৪)। ৩৭ রানে যেতেই আরেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রহমত শাহ (৪) আউট হন।
সেখান থেকে ইব্রাহিম ও হাশমতউল্লাহ শাহিদি ১০৩ রানের জুটি গড়েন চতুর্থ উইকেটে। ১৪০ রানের মাথায় শাহিদি ৩ চারে ৪০ রান করে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ইব্রাহিম ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই পঞ্চম উইকেটে ৬৩ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন। ২১২ রানের মাথায় ওমরজাই ৩১ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রানের ইনিংস খেলে ফিরলে ভাঙে এই জুটিও।
এরপর মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে এগোতে থাকেন ইব্রাহিম। এ যাত্রায় তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ৬৫ বলে ফিফটি করা ইব্রাহিম ১০৬ বলে ৬টি চার ও ৩ ছক্কায় স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগার। তাও ১৬ মাস পর। সবশেষ তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখা।
১০০ থেকে ইব্রাহিম দেড়শ’তে পৌঁছান মাত্র ২৮ বলে। ১০৬ বলে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান ১৫০ করেন ১৩৪ বলে ১১টি চার ও ৪ ছক্কায়। মারমুখী ব্যাটিং করা এই ব্যাটসম্যান ৫০তম ওভারে গিয়ে আউট হন। লিয়াম লিভিংস্টনের করা ওভারের প্রথম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে জোফরা আর্চারের হাতে ধরা পড়েন বাউন্ডারি লাইনের সামনে। যাওয়ার আগে খেলে যান ১৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। গড়ে যান ইতিহাস।
এরপর ফিরেন তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া নবীও। তিনি মাত্র ২৪ বলে ২ চার ও ৩ ক্কায় ৪০ রান করেন। তাতে আফগানিস্তানের রান ৭ উইকেটে ৩২৫ পর্যন্ত যায়।
বল হাতে ইংল্যান্ডের আর্চার ১০ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। লিভিংস্টন ৫ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন জেমি ওভারটন ও আদিল রশিদ।
আরও - খেলাধুলা সংবাদ
ক্রিকেট বিশ্বে হাস্যরস: পাকিস্তানে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে বাজল ভারতের জাতীয় সংগীত
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি