সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের আনন্দ

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিন। সমাজের সব স্তরের মানুষের মতো কারাবন্দিদের জন্যও দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়।

এবারও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে প্রায় আট হাজার বন্দি এবং দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদুল ফিতর যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার, ঈদের জামাত এবং উৎসবমুখর পরিবেশের ব্যবস্থা করা হয়, যা তাদের ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দেয়।

ঈদের দিন সকাল ৭টায় কারা মহাপরিদর্শক কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কারাগারের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে সকাল ৮টায় কারাগারের অভ্যন্তরের মাঠে বন্দিদের জন্য ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়।

সেখানে আট হাজার বন্দি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা এক অনন্য দৃশ্যের সৃষ্টি করে। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বন্দিদের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঈদের দিনে বন্দিদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারে বিশেষ আয়োজনের মধ্যে ছিল— সেমাই, মিষ্টি, গরুর মাংস, সাদা ভাত, খাসির মাংসসহ আরও বিভিন্ন রকমের খাবার।

এই বিশেষ খাবারের আয়োজন বন্দিদের মধ্যে ঈদের আমেজ তৈরি করে এবং তারা নিজেদের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

কারা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনের নির্দেশনায় কারা উপ-মহাপরিদর্শকদের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক কারাগারে কারা তত্ত্বাবধায়ক ও জেলারেরা কারাগারে উপস্থিত থেকে কারা কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর পালন করা হয়েছে।

প্রত্যেক কারাগারে ঈদ উপলক্ষে পুরুষ বন্দিদের পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি এবং নারী বন্দিদের শাড়ি, থ্রি-পিস উপহার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী বন্দিদের সাথে থাকা শিশুদের কাপড়ও দেওয়া হয়েছে। ঈদের খাবার হিসেবে সেমাই, মিষ্টি, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও সাদা ভাত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কারাগারে বন্দিদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আগত আত্মীয়-স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ ও মিষ্টি দেওয়া হয়েছে।

কারাগারের ভেতরে বন্দিদের মাঝে সারাদিনই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। ঈদের নামাজ ও বিশেষ খাবারের পরিবেশন ছাড়াও বন্দিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। কারাগারের কর্মকর্তারা বন্দিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

কারা কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন বন্দিদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করে। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্ত তাদের মনোবল চাঙা করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে তারা নতুন করে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা পায়।

সুশীল সমাজ মনে করে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ উদযাপনের এই বিশেষ উদ্যোগ বন্দিদের মনে ঈদের আনন্দ এনে দেয়। কারা প্রশাসনের এই মানবিক প্রচেষ্টা বন্দিদের সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “ঈদের আনন্দ সবার জন্য”—এই বার্তাকে ধারণ করে কারাগারেও এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা বন্দিদের মনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেয়।

যাযাদি/ ০১ এপ্রিল ২০২৫

আরও - জাতীয় সংবাদ

আরও - জেলা সংবাদ