-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
ভালো আম চেনার উপায়
গ্রীষ্ম এলেই ফলের বাজারে বাড়তে থাকে আমের কদর। তবে মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বাজারে দেখা যাচ্ছে বাহারি রঙের পাকা আম। বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অনেক সময় এসব আম কাটার পর দেখা যায় ভেতরটা কাঁচা, শক্ত এবং স্বাদে টক। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—এসব আম কি সত্যিই গাছপাকা, নাকি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বাজারজাত ও বেশি লাভের আশায় অনেক ব্যবসায়ী কাঁচা আম কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বিক্রি করেন। এজন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে। এসব উপাদান শুধু আমের স্বাভাবিক গুণ নষ্ট করে না, দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
গাছপাকা আম সাধারণত একরঙা হয় না। এর গায়ে সবুজ, হালকা হলুদ কিংবা লালচে মিশ্র রঙ দেখা যায়। কখনও ছোট কালচে দাগও থাকতে পারে। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম দেখতে অতিরিক্ত উজ্জ্বল ও চকচকে হয়। পুরো আমে একই ধরনের গাঢ় হলুদ রঙ থাকে, যা অনেক সময় অস্বাভাবিক লাগে।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে সেই স্বাভাবিক সুবাস পাওয়া যায় না। বরং কিছু ক্ষেত্রে ঝাঁজালো বা কটু ধরনের গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
একটি পাত্রে পানি নিয়ে আম ডুবিয়ে দিলে অনেক সময় পার্থক্য বোঝা যায়। সাধারণত গাছপাকা আম পানিতে ডুবে যায়। অন্যদিকে রাসায়নিক ব্যবহার করা আম পানির ওপরে ভেসে থাকতে পারে।
কৃত্রিমভাবে পাকানো আম খেতে অনেক সময় টক বা বিস্বাদ লাগে। কিছু ক্ষেত্রে জিভ বা গলায় অস্বস্তি ও জ্বালাভাবও হতে পারে।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করলে তা বাতাসের সংস্পর্শে এসে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা আম দ্রুত পাকাতে সাহায্য করে। তবে এই রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া আমের রঙ আরও উজ্জ্বল করতে ইথিলিন স্প্রে ব্যবহার করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এসব রাসায়নিকযুক্ত ফল খেলে লিভার, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই আম কেনার সময় শুধু রঙ দেখে নয়, গন্ধ, স্বাদ ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যাচাই করেই কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এএডি/
সময়ের আলো/১১ মে, ২০২৬