সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:37 am

তিস্তায় ভাসানী সেতুর উদ্বোধন, স্বপ্নযাত্রা শুরু

তিস্তা নদীর ওপর নবনির্মিত মওলানা ভাসানী সেতুর উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে সংযুক্ত করা এই সেতুটি উদ্বোধন হয়। এর মধ্যে দিয়ে দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেল।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রথমে সেতুর নামফলক উন্মোচন করেন। এরপর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি মো. ওমর ফারুক বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

ফিতা কেটে সেতুর দ্বার উন্মুক্ত করার সময় স্থানীয় মানুষের ব্যাপক ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।

উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, এই সেতু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন, ছোট ও মাঝারি কলকারখানা স্থাপন এবং উন্নত রোড নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, সেতুটি ওই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে ভূমিকা রাখবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। ভোর থেকেই তিস্তার পাড়ে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে, কেউবা দলবেঁধে এসে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হন। তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ আর গর্বের ঝলক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ, পুলিশ সুপার নিশাত এ্যাঞ্জেলা, গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী এবং সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ হাসিমুখে গাইবান্ধাবাসীর সঙ্গে করমর্দন করে আনন্দ ভাগ করে নেন।

গত ১০ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এই সেতুটির নামকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি), এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) যৌথ অর্থায়নে এই সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। ১ হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ এবং ৯.৬০ মিটার প্রস্থের সেতুটির লেন সংখ্যা ২টি এবং মোট স্প্যান সংখ্যা ৩১টি। এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু। সেতুর পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এক্সেস সড়ক, ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু।

সময়ের আলো/২০ আগস্ট ২০২৫

আরও - জেলা সংবাদ