-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
বাজার থেকে ‘উধাও’বোতলজাত সয়াবিন তেল
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার জোরালো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে রাজধানীর বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল একেবারেই মিলছে না। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খোলা সয়াবিন তেলের দামও আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ২১০ টাকায়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের তাকে বোতলজাত তেলের দেখা নেই। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ১২ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর থেকেই ডিলাররা তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো কোনো দোকানে দুই-এক লিটারের সীমিত বোতল থাকলেও পাঁচ লিটারের বোতল বাজার থেকে পুরোপুরি ‘উধাও’ হয়ে গেছে।
মালিবাগের খুচরা বিক্রেতা রহমান হোসেন জানান, কোম্পানির লোক দুদিন ধরে আসছে না। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, দাম না বাড়লে তারা তেল ছাড়বে না। এই কৃত্রিম সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দরেই তা কিনতে হচ্ছে।
হাজীপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আক্কাস আলী জানান, তার কাছে থাকা শেষ কয়েক বোতল তেল তিনি ২০০ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি করছেন, কিন্তু নতুন করে কোনো সরবরাহ পাচ্ছেন না।
এদিকে, বাজারে তেলের এমন হাহাকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। সেগুনবাগিচায় তেল কিনতে আসা আমানুর রহমান বলেন, পত্রিকায় পড়লাম তেলের দাম বাড়বে না, সরবরাহ ঠিক থাকবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বোতলজাত তেল নেই। বাধ্য হয়ে ২১০ টাকা কেজি দরে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা আক্তারুজ্জামান টিটু অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকারের উচিত কেবল বৈঠক না করে বাজার তদারকিতে কঠোর হওয়া।
উল্লেখ্য, গত রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইনে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও সরকার ভোক্তা স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সময়ের আলো//কহু