সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

August 13, 2026 1:45 pm

গোপনে বিমান বদল করে সরানো হয় ট্রাম্পকে

নিরাপত্তার কারণে ট্রাম্পকে বড় এয়ার ফোর্স ওয়ানে না তুলে একটি ছোট সি-৩২এ বিমানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। সেদিন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা ছিল। তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় শেষ মুহূর্তে বদলে যায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানযাত্রার পরিকল্পনা। নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কার কারণে বড় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে ট্রাম্পকে একটি ছোট বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি তাঁর সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও তখন জানতেন না, প্রেসিডেন্ট আসলে তাঁদের সঙ্গে নেই। ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে বিমান বদলের সেই গোপন অভিযান নিয়ে এখন সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদল

ট্রাম্পকে গোপনে বিমান বদলাতে একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করা হয়। বিমানবন্দরে ট্রাম্পের গাড়িবহর পৌঁছানোর আগেই ট্রাকটি এয়ার ফোর্স ওয়ানের পাশে এনে রাখা হয়েছিল।

ট্রাম্প বড় বিমানে ওঠার পর ট্রাকটি বিমানের পাশে যায়। পরে ট্রাম্প ওই ট্রাকের মাধ্যমে বড় বিমান থেকে বের হয়ে ছোট সি-৩২এ বিমানে ওঠেন।

এরপর ট্রাম্পকে ছাড়া বড় এয়ার ফোর্স ওয়ান স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টা ৪৪ মিনিটে তুরস্ক থেকে উড়ে যায়। এক মিনিট পর ট্রাম্পকে নিয়ে ছোট বিমানটিও দেশ ছাড়ে।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বড় বিমানে থাকা বেশির ভাগ মানুষই জানতেন না যে ট্রাম্প সেখানে নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বড় বিমানেই থেকে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য ও সাংবাদিকেরা।

ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা

ছোট বিমানে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাদের মধ্যে ছিলেন নাটালি হার্প, ড্যান স্ক্যাভিনো এবং ওয়াল্ট নাউটা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ট্রাম্পের সঙ্গে ছোট বিমানে ছিলেন।

ব্রিটেনে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানের দিকে হাঁটেন। তার সঙ্গে ছিলেন হেগসেথ, নাউটা ও হার্প।

সেখান থেকে ট্রাম্প নতুন বিমানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

সাংবাদিকরাও বুঝতে পারেননি কী ঘটছে

তুরস্ক থেকে যাত্রার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। কারণ হিসেবে সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশের কথা জানানো হয়।

সাংবাদিকরা ভেবেছিলেন, ট্রাম্প তাদের সঙ্গেই বিমানে আছেন। কিন্তু পুরো যাত্রায় ট্রাম্প তাদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ব্রিটেনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে অন্য একটি অংশ থেকে নামতে দেখেন। এরপর তারা তাকে অনুসরণ করে কাতারের দেওয়া বিমানে ওঠেন।

তখনও তারা জানতেন না যে ট্রাম্প আসলে তাদের সঙ্গে তুরস্ক থেকে আসেননি।

পরে জানা যায়, ট্রাম্পকে নিরাপদে তুরস্ক থেকে বের করে আনতেই পুরো ঘটনাটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ইরানের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ

ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিন ট্রাম্প বারবার ইরানের কাছ থেকে তার জীবনের হুমকির কথা বলেছিলেন।

২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর থেকেই ইরান ট্রাম্পের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে আসছে।

ট্রাম্প তুরস্কে যাওয়ার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বিভিন্ন জায়গায় ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় ইরানের পার্লামেন্টের সদস্য হামিদ রাসায়ি প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর আগে, সিএনএন জানিয়েছিল, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিয়েছে যে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার নতুন পরিকল্পনা করেছে। তবে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা সেই তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

ট্রাম্প বললেন, ‘আমাকে যা বলা হয়, তাই করি’

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প গোপনে বিমান বদলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাকে অন্য বিমানে যেতে বলেছিল এবং তিনি তাদের কথা মেনেছেন।

পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জানা যায়, ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য তুরস্ক ছাড়ার শেষ মুহূর্তে পুরো বিমানযাত্রার রুটই বদলে ফেলা হয়েছিল। এমনকি তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও অনেক কর্মকর্তাকেও ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছিল।


সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স
১৩ আগস্ট, ২০২৬

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ