-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
খেজুর গাছের রস আহরণে ব্যস্ত মৌসুমী গাছিরা
বগুড়ার কাহালুতে আগামী শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু, মিষ্টি ও মজাদার রস আহরণের লক্ষ্যে রস নিসৃত হওয়ার মুখা কাটতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমী গাছিরা।
শীতকাল আগমনের পূর্বেই কার্তিক মাসে গাছিরা খেজুর গাছে উঠে ধারালো হাসুয়া বা বাটাল দিয়ে গাছের ডাল কেটে যে অংশ বের হয় তার উপরের অংশ হালকা ছেঁটে দিয়ে রস নিসৃত হওয়ার উপযোগী করে এই মুখা তৈরি করেন। গ্রাম-গঞ্জে রস আহরণে আগাম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা।
ঋতু বৈচিত্রের পৌষ ও মাঘ শীতকাল হলেও কার্তিক ও অগ্রহায়ণে শিশির ভেজা প্রকৃতিতে হেমন্তের হিমেল বাতাসে শীতের আগমনি বার্তা বয়ে আনে।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ হেমন্ত কাল হলেও পৌষ ও মাঘে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে খেজুর গাছ থেকে সুস্বাদু এই রস আহরণ করে থাকেন গাছিরা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বসন্তের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ চলে। বছরে একবার শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে এই রস আহরণ করা হয়।
শীত মৌসুমে গাছিরা গ্রাম-গঞ্জে অস্থায়ী বাসস্থান বানিয়ে খেজুর গাছ মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রকার ভেদে প্রতি খেজুর গাছ থেকে ৩-৪ কেজি লালি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রস আহরণ শুরু করেন ।
মুখায় কাঠ বা টিনের লাগিয়ে খেজুর গাছে রস নিসৃত হওয়ার জন্য তৈরি করা একটি জিহ্বা। ঐ জিহব্বা বরাবর মাটির হাড়ি বা প্লাস্টিকের পাত্র টাঙিয়ে দেওয়া হয়। দু-এক ফোটা করে সারারাত ঐ হাড়িতে খেজুর গাছের রস নিসৃত হয়ে জমা হতে থাকে। ভোর আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর গাছ থেকে রসের হাড়ি নামানো শুরু হয়। তা চলে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
তিন দিন পর পর পালা বদল করে একটি খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করা হয়। আহরণকৃত রস বাড়ির উঠানে মস্ত চুলায় সিটের তাওয়াতে জ্বাল করা হয়, আর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় খড়।
রস জ্বাল দিয়ে লালচে বর্ণ ধারন করে আরও গারো লালচে হলে সে গুলো পাত্রে ঢেলে দানাদার লালি, পাটালি ও বাটি গুড় তৈরি করা হয়। উৎপাদিত লালি ও গুড় বাজারে বিক্রি করে গাছিরা জীবিকা নির্বাহ করে।
এসময় লালি ও গুড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে গাছিদের হিমশিম খান।
কাহালু সদর ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামের মৌসুমী রস আহরণ কারি (গাছি) বুলবুল ও জামিল উদ্দীন জানান, প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই খেজুর গাছের রস আহরণ করে লালী ও গুড় তৈরির ব্যবসা করে আসছি। খড়ের মূল্য বেশি হওয়ায় রস থেকে লালি ও গুড় তৈরি করতে খরচ বেশি হয়, তবে লোকসান না হলেও লাভ কিছুটা কম হয় বলে তারা জানান তিনি।
শীতকালে খেজুরের রসের পায়েস, পিঠা, পুলি, ক্ষীর, সন্দেশ, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ পিঠা সহ হরেক রকমের বাহারি পিঠা তৈরি করা হয়, যা স্বাদে অতুলনীয়। গ্রাম বাংলায় খেজুর রসের তৈরি পিঠার কদর আজো অনেক বেশি।
নতুন ধানের চাল দিয়ে খেজুর রসের যে কোন পিঠা তৈরি করতে পাড়া গ্রামে ধুম পড়ে যায়। জামাই আদর করতে গভীর রাত পর্যন্ত মহিলারা এ পিঠা তৈরিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন।
এ ছাড়া শহর গ্রামে পৌষ পার্বণে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এ ব্যপারে কাহালু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় খেজুর গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। তা ছাড়া খেজুরের রস ও গুড় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যে। বর্তমানে আমাদের কাছে খেজুর গাছের কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খেজুর গাছের সঠিক পরিচর্যা করা হলে তা থেকে বাণিজ্যিকভাবে আয় করা সম্ভব ।
সময়ের আলো/কেএইচও
২৩ অক্টোবর, ২০২৫