সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 4:48 am

ডেভিল কী, যেভাবে এলো পৃথিবীতে

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্টদের দমনে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, অভিযানে গত দুই দিনে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এটিকে আরও জোরদার ও বেগবান করার জন্য এবং ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের দমনের উদ্দেশ্যে কোর কমিটি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অবিলম্বে চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ডেভিল কী, পৃথিবীতে কীভাবে ডেভিল এলো

ইবলিস গ্রিক শব্দ ডিয়াবুলুস থেকে এসেছে। এই শব্দ থেকেই ফরাসি ভাষায় Diable এবং ইংরেজিতে Devil শব্দের উৎপত্তি। গ্রিক ভাষায় এর মৌলিক অর্থ কুৎসা রটনাকারী, বিশ্বাসঘাতক। ইবলিস শব্দটি কোরআনে ১১ বার এসেছে। অহংকার ও আদম (আ.)-কে সেজদা না করার বিষয়ে এসেছে নয় বার।

তখনও মানুষের সৃষ্টি হয়নি। আল্লাহর সৃষ্টিতে ছিল ফেরেশতা ও জিন। ফেরেশতারা নুরের তৈরি। জিন সৃষ্টি আগুনের। ইবলিস ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে থাকত ফেরেশতাদের সঙ্গে। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সেজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল। সে দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৪)

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, আদামকে সেজদা করো। তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সেজদা করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে তার প্রতিপালকের নির্দেশ লঙ্ঘন করল।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ৫০)

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায়, ইবলিস ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে ফেরেশতাদের দলভুক্ত ছিল না। কারণ, তার মৌলিক উপাদান আগুন। তাকে যখন বলা হলো আদম (আ.)-কে সেজদা করার জন্য, তখন সে অস্বীকার করে বলেছিল, ‘আমি তার (আদমের) চেয়ে উত্তম; আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে আর তাকে (আদমকে) সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তিনি বললেন, ‘নেমে যা এখান থেকে, এর ভেতরে থেকে অহংকার করবে তা হতে পারে না, অতএব বেরিয়ে যা, অধমদের মাঝে তোর জায়গা।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১২-১৩)

অহংকার ও সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহর আদেশ অমান্য করায় সে আল্লাহর দয়া ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেন। সে জান্নাতের আশপাশে থাকত। সেসময় সে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। আদম (আ.)-কে কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের জালে ফেলতে না পেরে হাওয়া (আ.)-কে নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়াতে প্ররোচিত করে। হাওয়া (আ.) ইবলিসের জালে আটকে যান। স্বামীসহ তিনি খেয়ে ফেলেন নিষিদ্ধ সে ফল। আল্লাহ তাঁদের দুজনকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। পাঠিয়ে দেন ইবলিসকেও।

ইবলিস পৃথিবীতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর প্রকাশ্য শত্রু বনে যায়। সে তাদেরকে আল্লাহবিমুখী করার নানামুখী ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এভাবে সে আদমসন্তানদের ইসলাম থেকে দূরে রাখার কূটকৌশল করতে থাকে। এ কাজ সে কিয়ামত পর্যন্ত করবে। আল্লাহ তাকে কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকার জীবন দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেন এবং সে বলে, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করে নেব। আমি তাদের পথভ্রষ্ট করবই।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৮-১১৯)

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৪২)

রায়হান রাশেদ
আরআর/সময়ের আলো
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

আরও - ভিন্ন খবর

আরও - ইসলাম সংবাদ