সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 11:41 am

৮ বছর ঝুলে আছে সেতুর কাজ

আট বছরেও শেষ হয়নি ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মিতব্য মুন্সীগঞ্জের বহুল প্রত্যাশিত মোল্লাবাজার সেতুর কাজ। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ সড়ক পথে স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে মাত্র ৩০ মিনিটে নির্বিঘ্নে ঢাকায় যাতায়াত করা সম্ভব হবে। অথচ বিকল্প সড়ক পথে রাজধানীতে যেতে বর্তমানে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম সবদিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুটি স্প্যান ও ভায়াডাক্টের কাজ শেষ করে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও বাকি রয়েছে বলে জানান কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।

খেঁাঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সংযোগস্থলে ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুন মাসে। প্রকল্প অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫২ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই পথে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে দিন-রাত পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌযানটি জরাজীর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই পাওয়া যাচ্ছে, বাস্তবে সেতুর সুফল মিলছে না। দ্রুত কাজ শেষ করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা। এই রুটে চলাচলরত ভুক্তভোগী আসাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু বানাতেও এত সময় লাগেনি। এই সেতু বানাতে কেন এত সময় লাগছে, সরকার কি সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে না? আমরা দ্রুত চাই ব্রিজে কাজ সম্পন্ন হউক।

আরেক ভুক্তভোগী মো. মানিক বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন করা হোক।


জুয়েল রানা, মুন্সীগঞ্জ
৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সময়ের আলো

আরও - জেলা সংবাদ