সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

July 1, 2026 4:25 pm

বিশ্বাসই মরক্কোর বড় শক্তি

মরক্কোকে এত সহজে হারানো যায় না। কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়ে ম্যাচে ফেরে আটলাস লায়ন্স। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে সমতা ফিরিয়ে, পরে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকেট নিশ্চিত করে তারা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ৭২ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। কোডি গাকপোর গোলে তখন শেষ ষোলো প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল ডাচদের।

ম্যাচ শেষে মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই জানিয়ে দিলেন, শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দলের কেউই বিশ্বাস হারাননি। সেই অটুট আত্মবিশ্বাসই এনে দিয়েছে আরেকটি ঐতিহাসিক জয়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কঠিন লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার পর নিজের দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন নুসাইর মাজরাউই। তার মতে, ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্ত থাকা এবং নিজেদের পরিকল্পনায় আস্থা রাখার ফলেই জয় সম্ভব হয়েছে।

ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাজরাউই বলেন, ‘ম্যাচজুড়ে, এমনকি শেষ মুহূর্তেও আমরা কখনো নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাইনি। তারা রক্ষণে নেমে যাওয়ার পরও আমরা আতঙ্কিত হইনি। শেষ পর্যন্ত চেমসদিন তালবির দারুণ একটি বল থেকে ইসা দিওপ অসাধারণ হেডে সমতা ফিরিয়েছে।’

কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনাল খেলেছিল মরক্কো। সেই আসরে ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল তারা। এবারও কঠিন পথই পাড়ি দিতে হচ্ছে আফ্রিকার দলটিকে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার পর নকআউটে পড়েছে নেদারল্যান্ডসের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দলের সামনে। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি তারা।

মাজরাউই বলেন, ‘খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ম্যাচ। তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি, বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদারও। এমন একটি দলকে হারাতে পারা আমাদের জাতীয় দল হিসেবে কতটা উন্নতি করেছি, সেটাই প্রমাণ করে।’

দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রাখে মরক্কো। সাধারণত যেসব দল নিজেরাই বলের দখল ধরে রাখতে অভ্যস্ত, সেই নেদারল্যান্ডসকে দীর্ঘ সময় রক্ষণে থাকতে বাধ্য করে আটলাস লায়ন্স। ম্যাচজুড়ে একাধিক পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করে তারা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। নেদারল্যান্ডসের পঞ্চম শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর ইসমাইল সাইবারি জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করে মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন।

জয়সূচক গোলের পর সাইবারি বলেন, ‘অনুভূতিটা অসাধারণ। তবে সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো আমরা পরের রাউন্ডে উঠেছি। এই সাফল্যের জন্য দলের সবাইকে ধন্যবাদ।’

দ্বিতীয়ার্ধের কৌশল নিয়েও কথা বলেন মাজরাউই, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ বেশি নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সেটিও নেদারল্যান্ডসের পরিকল্পনার অংশ ছিল। তারা কাউন্টার অ্যাটাকে খেলতে চেয়েছিল এবং আমাদের বলের দখল ছেড়ে দিয়েছিল। পুরো ম্যাচে না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে সেটি স্পষ্ট ছিল। তাদের পরিকল্পনা কিছুটা সফল হয়েছিল। কারণ তারা একটি লং বল থেকে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করেছে। কিন্তু আমরা ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করে সেটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে পেরেছি।’

কাতার বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়ার পরও মরক্কো যে সেই সাফল্যকে কেবল স্মৃতি হিসেবে রাখতে চায় না, সেটি আবারও প্রমাণ করেছে। এবারের বিশ্বকাপে চার ম্যাচ খেলে এখনও অপরাজিত তারা।

মাজরাউই বলেন, ‘প্রতিটি বিশ্বকাপই আলাদা। চার বছর আগে যা করেছি, সেটা অতীত। প্রতিটি বিশ্বকাপেই নতুন কিছু করে দেখানোর লক্ষ্য থাকে। আমার মনে হয়, ফেডারেশন ও জাতীয় দল হিসেবে আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা আনন্দিত, তবে শেষ পর্যন্ত বিনয়ী থাকব।’

এবার শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কানাডা। ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। তবে প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে নিচ্ছেন না মাজরাউই, ‘কানাডার বিপক্ষে অবশ্যই কঠিন ম্যাচ হবে। তারা দারুণ ছন্দে আছে, তাদের দুর্দান্ত একটি দল এবং মানসম্পন্ন অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। তাই মরক্কোর জন্য আবারও বিশেষ কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের সামনে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’

১ জুলাই, ২০২৬

আরও - খেলাধুলা সংবাদ