-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
সুদানে আদালতে ড্রোন হামলা, নিহত ৩৫
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আদালতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার
সংগঠনটি জানায়, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ১১টা) উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। ওই সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানিতে অংশ নিতে অনেক সাধারণ মানুষ আদালতে জড়ো হয়েছিলেন।
গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আদালতের কার্যক্রম একটি গাছের নিচে চলছিল এবং সেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। হামলায় চারজন উপজাতীয় নেতা ও আরএসএফের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তিনি নাম প্রকাশ করেননি।
ড্রোন হামলায় আদালত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আদালত স্থানীয় ও উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার সাবেক মিত্র, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর বাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি এল-ফাশের শহরের পশ্চিমে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবর মাসে রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে আরএসএফ এল-ফাশের দখল করে নেয়। এর আগে শহরটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ বড় ঘাঁটি ছিল।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হয়েছে, তাতে গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। একে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করছে জাতিসংঘ।
যুগান্তর আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬