সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

September 30, 2026 3:27 pm

দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ বুধবার। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আল–জাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী। প্রায় দুই দশক অবস্থানের পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটলো দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আগ্রাসনের ২৩ বছর পর। ২০০৩ সালে ওই বাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমন অভিযান চালায় তারা। প্রথমে সাদ্দাম-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এবং পরে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই করে মার্কিন বাহিনী। এরপর দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।

২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। তবে এর তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে ফিরে আসে তারা। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’-এ আফগানিস্তানে একই সময়ে চলা যুদ্ধের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ