-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
ঢাকায় জীবন অতিষ্ঠ
রাজধানীতে একের পর এক ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন আন্দোলনে জনজীবন স্থবির। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব কারণে পৃথিবীর অন্যতম বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে ঢাকা। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রাজধানীবাসী। সড়কেই কেটে যায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এই সুযোগে অপরাধীরা অপরাধ করছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
বিক্ষোভ-অবরোধে ভোগান্তি : বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একের পর এক আন্দোলনে একরকম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। এ যেন দাবির শহরে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দাবি আদায়ে লাগাতার আন্দোলন করেই যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এক দিনে রাজধানীর ১৭টি জায়গায় নানা দাবিতে অবরোধ, আন্দোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
১২তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। রোববার মহাসমাবেশের পুলিশি বাধার পর সোমবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তারা। লাগাতার এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ৬ ফেব্রুয়ারি। জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের স্বীকৃতি দান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ তিন দাবিতে গতকাল শাহবাগে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনে আহতরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক পরিসংখ্যান বলছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ১৫০টি আন্দোলন সামলাতে হয়েছে এবং প্রতিদিনই এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। শাহবাগ মোড় ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিদিন বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন চলছে, যার ফলে ওই এলাকার সড়ক প্রায় প্রতিদিনই যানজটের কবলে পড়ছে।
নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ সাধারণ কোনো বিষয় নিয়ে রাস্তায় নেমে যায়। যেন মনে হচ্ছে রাজধানী হয়ে উঠেছে দাবির শহর। তাদের কারণে পথচারীরা কোথাও যেতে দীর্ঘ সময় যানজটে বসে থাকতে হয়।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি : চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে অতিষ্ঠ মানুষ। এতে করে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে নগরবাসীদের। গত ছয় মাসে প্রায় সব সূচকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা, থানায় ভাঙচুর, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনাও কম নয়। ঢাকার অধিকাংশ এলাকার মানুষ সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হতে ভয় পায়। আর এসব অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, ঢাকায় গত আগস্ট থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। আগস্টে রাজধানীর ৫০টি থানায় চারটি ছিনতাইয়ের মামলা করা হলেও তা বেড়ে ডিসেম্বরে ৩৮টি হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারির ১৫ দিনেই ছিনতাইয়ের মামলা করা হয় ৩১টি। প্রকৃত ছিনতাই আরও বেশি। কারণ ছিনতাইয়ের শিকার বেশিরভাগ পথচারী মামলা করে না। আইনি প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ও হয়রানির আশঙ্কায় তারা মামলা করতে চায় না। এ ছাড়াও গত আগস্টে ঢাকায় চুরির মামলা করা হয়েছিল ৪৩টি। মাসে মাসে বেড়ে ডিসেম্বরে তা ১২৬টি হয়। এভাবে ডাকাতি ও নারী নির্যাতনের ঘটনাও বেড়েছে।
ধুলোর দুর্ভোগে রাজধানীবাসী : রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের কারণে অসুস্থ নগরীতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এর পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এ সময়ে ঢাকাতে ধুলা দূষণের প্রকোপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। এখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজ ও রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ধুলোর দুর্ভোগ অনেক বেশি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এমনকি ২০২৫ সালের শুরুতেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে ঢাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুতে শ্বাস নিলে প্রতিদিন ২২টি সিগারেট খাওয়ার সমান প্রভাব পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া মানের চেয়ে ১৫ গুণের বেশি পিএম ২ দশমিক ৫ পাওয়া গেছে ঢাকার বাতাসে। এদিকে ধুলাবালির সমস্যা সমাধানে সড়কগুলোতে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন পানি ছিটানোর কাজ করছে বললেও নেই তেমন কোনো সুফল।
এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) অনুযায়ী, পিএম ২ দশমিক ৫ এর বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৪ দশমিক ৮ বছর কমছে। এই সূক্ষ্ম কণা শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ ভয়াবহ ধুলা দূষণের শিকার হচ্ছে। তা ছাড়া বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ মারা যাচ্ছে।
ফুটপাথ হকারদের দখলে : রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ফুটপাথ থাকলেও তা থাকে হকারদের দখলে। এক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার মোট যাতায়াতের ৩৭ দশমিক ২ শতাংশই হয় পায়ে হেঁটে। তবে হাঁটার জন্য এই জায়গাটুকু নেই রাজধানীতে।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথে বছরের পর বছর দখল করে কাপড়সহ নানা সামগ্রী বিক্রির দোকান বসানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য কোনো জায়গা না পেয়ে মূল সড়ক ধরে তাদের হাঁটতে হয়। এর ফলে বেড়েই চলেছে জনভোগান্তি ও ঘটছে দুর্ঘটনা।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, একটি শহরের জন্য আয়তন অনুযায়ী ২৫ শতাংশ রাস্তা দরকার। কিন্তু ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর আয়তন মাত্র ৩ শতাংশ। এসব সড়কের ফুটপাথের ৭০ শতাংশের বেশি ফুটপাথ হকাররা দখল করে রেখেছে। যদি ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পারে তা হলে ২২ হাজার কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় হবে। যানজট কমার ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তা ছাড়া রাস্তায় প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গা রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি দখল করে আছে। গণপরিবহন মাত্র ২৫ শতাংশ জায়গায় চলে। হকারদের কারণে মানুষ রাস্তায় চলে আর এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি গাড়ির জন্য আলাদাভাবে লেন থাকলে তখন এতটা সমস্যা হতো না।
গণপরিবহনে ভোগান্তির অন্ত নেই : গণপরিবহন নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে যানজটের সৃষ্টি করছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে এগুলোর সমাধানের কথা বললেও এখনও হয়নি কোনো কাজ। এদিকে ঢাকার গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করে বাস মালিক সমিতি। তবে ফিটনেসবিহীন পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো রাতারাতি গোলাপি রং করে চালাতে গিয়ে নগরজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে গণপরিবহন সংকট। এতে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা মহানগরীতে ২০ বছরের পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় বাস উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়ার জানান বিশেষজ্ঞরা।
অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল রাজধানী : রাজধানী ঢাকার সড়কের পাশে গাড়ির অবৈধ পার্কিংয়ের চার লেনের মূল সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিংয়ে দখল হয়ে আছে প্রায় অর্ধেক রাস্তা। এসব সড়ক সিটি করপোরেশন বিভিন্ন মেয়াদে ইজারা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন অফিস ও শপিংমলের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের দৃশ্য দেখা যায়। এতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে নাগরিকদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পার্কিংয়ে রাখা অধিকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি। পরিতাপের বিষয় হলো পার্কিং করার অনুমতি না থাকলেও এগুলো দেখার কেউ নেই। প্রত্যেকে ইচ্ছেমতো জায়গায় গাড়ি থামিয়ে রাখছে। সিটি করপোরেশন থেকে এসব পার্কিং উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও তেমন একটা চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ করেন বিশেষজ্ঞরা।
বুয়েটের গবেষণায় উঠে এসেছে, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সবমিলিয়ে মাত্র ১০ শতাংশ সময় রাস্তায় চলে। বাকি ৯০ শতাংশ সময় গাড়ি পার্কিং অবস্থায় থাকে। ঢাকাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের বেশি। বাড়তি গাড়ির ফলে পার্কিংয়ের জায়গা হচ্ছে রাস্তায় ধারে। এটি যেমন দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে রাজধানীবাসীর কর্মঘণ্টা। রাজধানীর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ যানজটের জন্য দায়ী অবৈধ গাড়ি পার্কিং।
বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, গাড়ির অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে রাস্তার প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে। এতে করে সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে যেসব অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মধ্যে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার অন্যতম। অনেকের মধ্যে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা অনেকগুণ বেড়েছে। এগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেওয়ার কারণে নগর বিশৃঙ্খল হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান সময়ের আলোকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আশা করেছিলাম সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের সংকট কেটে যাবে। এমন একটি শক্তিশালী সরকারব্যবস্থা চালু হবে যারা জনগণের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু তা হয়নি। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা অচল হয়ে আছে। তা ছাড়া পুলিশের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে স্বেচ্ছচারী ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। সবাই ইচ্ছেমতো কাজ করছে। এ ধরনের আচরণের ফলে আড়াই কোটি জনসংখ্যার শহরকে অনেকটা আবাসযোগ্য করে তুলেছে। এর ফলে বাস মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সবকিছু তাদের কাছে রেখে দিয়েছে। শিল্প-কারখানার মালিকরা পরিবেশের ওপর বর্জ্য ফেলছে। ৫ আগস্টের পর থেকে দেখার কেউ ছিল না বলে ফুটপাথ দখলের পরিমাণ বেড়ে গেছে। যদি সিটি করপোরেশন এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তা হলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সবার স্বার্থে হলেও কঠোরভাবে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। তাদের বাধা দেওয়া মতো কেউ নেই। নগরে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর জন্য আইনি কাঠামোর পাশাপাশি নজরদারি ও পরিকল্পনা দরকার। এই সরকারের সময় কমিউনিটি নগর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তাই আগের মতো পার্কিং ও ফুটপাথ দখল চলছেই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে।
ঢাকার বায়ুর মান ভীষণ ভয়ংকর হয়ে উঠেছে উল্লেখ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, বেলা ২০২২ সালে বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টে একটি মামলা করে। সেই মামলায় আদালত থেকে বলা হয়েছিল প্রতিদিন সতর্ক বার্তা চালু করার জন্য। বর্তমান বায়ুর মান বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে খারাপ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর হলে মানুষকে সতর্ক করা যাবে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়িয়ে যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শিল্প ও নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়মিত পানি ছিটানো দরকার। এসবের আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন নেই। ইটভাটার জন্য বারবার বলার পরেও কাজ হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের মতামত : এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী সময়ের আলোকে বলেন, ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করার বিষয়টি এক দিনের ইস্যু নয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে। তাদের সকালে উচ্ছেদ করে দিলে দুপুরে আবারও বসে যায়। তবে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে পুলিশকে অভিযানের কাজে রাখা হচ্ছে। তবে আমাদের পাশাপাশি প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকি থাকা দরকার। কারণ আমাদের একার পক্ষে সবকিছু ঠিক করা সম্ভব না। আমাদের সবার সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই ফুটপাথকে হকারমুক্ত রাখা যাবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পুর ও পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম সময়ের আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ সারা বিশ্বের মধ্যে আমাদের শহরের অবস্থা সবার ওপরে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনের যেসব পদক্ষেপ আছে তা আমরা পালন করার চেষ্টা করছি। আমরা প্রতিদিন ১০টি পানির গাড়ি দিয়ে পানি ছিটিয়ে থাকি।
আব্দুল কাইয়ুম
সময়ের আলো অনলাইন/১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫