-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
জায়নবাদীদের সঙ্গে কখনোই আপস নয়, হুঁশিয়ারি খামেনির
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি বলেন, “আমরা জায়নবাদীদের প্রতি কোনো দয়া দেখাবো না।” এই বক্তব্যের মধ্যেই ইসরায়েল তেহরানের নিকটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ইমাম হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায়, যেটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে ‘ফাত্তাহ-১’ নামের একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরান দাবি করেছে, এটি চারশ সেকেন্ডে তেল আভিভে পৌঁছাতে সক্ষম।
এটি ছিল চলমান সংঘাতে ইরানের প্রথম হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছিল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড এই মিসাইলকে ‘ইসরায়েল বিধ্বংসী’ বলে বর্ণনা করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক সক্ষমতা যাচাই করা এখনও চ্যালেঞ্জিং বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবার আরেক ধাপ উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায়। জবাবে ইরানও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ নানা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “জায়নবাদীদের সঙ্গে আপস নয়”, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সংঘাত ঘিরে তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। গত কয়েকদিনে আমেরিকার অন্তত ৩০টি যুদ্ধবিমান ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ এবং ট্যাংকার বিমান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য বলছে, এই বিমানগুলো স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে থামছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে খামেনিকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “আমরা জানি তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। এখনই না হলেও, আমরা তাকে বের করে আনবো।” একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, “ইরানের আকাশসীমা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” এই বক্তব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ এটি সরাসরি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ‘ফোর্ডো’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে টার্গেট করা হতে পারে। হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এ সিদ্ধান্তে এখনও পুরোপুরি ঐকমত্যে পৌঁছাননি।
তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা
১৮ জুন ২০২৫