সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 5:17 am

পিছু হটবে না ইরান 

টানা ৫ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তেহরানের ৯০ লাখ বাসিন্দাকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। তার কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প কানাডায় জি৭ সম্মেলন থেকে আগেভাগেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন।

ট্রাম্পের এমন করার পেছনে- মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি হওয়ার কথা বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে এ ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে।ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। সে সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছিল। মানবিক সংস্থার হিসেবে, ইরানে ইসরায়েলি হামলায় ৪৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক, এমনকি অনেক শিশুও। পাল্টা হামলায় ইসরায়েল দাবি করে তাদের ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি দফা শুরু হয়। এরপর থেকে টানা পঞ্চম দিনের মতো হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে সংঘাত। বিস্তৃত এক আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা জোরালো হয়ে উঠছে। উভয় দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এরপরও থামছে না ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে জালিমদের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়ে জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ এক হামলায় তেহরানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি শাদমানি নিহত হয়েছেন। এটি ইসরায়েলের দিক থেকে এযাবৎকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাতজ ঘোষণা দিয়েছেন, মঙ্গলবার আরও ‘ভয়াবহ’ হামলা চালানো হবে। বিশেষ করে তেহরানে। ইরান বলছে, জবাবে তারা ইসরায়েলের একটি সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং মোসাদের একটি পরিকল্পনা পরিচালনাকেন্দ্রে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তেহরান থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলাগুলো ছিল ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানায়, তারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানায়, ‘জায়নিস্ট শাসনের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হবে।’ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতির ওপর একটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ চলছে, যেখানে শত্রু আমাদের জনগণের সাহস ও সহ্যশক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।’ জেনারেল তালায়ি-নিক জোর দিয়ে বলেন, ইরান একটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে আছে, তবে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও ব্যবহার করছে।

‘আমাদের প্রতিরক্ষা ফ্রন্টের পরিধি বিস্তৃত, এবং জনগণের প্রতিটি শ্রেণি এই প্রতিরক্ষার অংশ’, বলেন তিনি। তিনি ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন প্রথম রাতেই নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে বর্বরতা দেখানোর জন্য। রাজধানী তেহরানের উত্তরে একটি আবাসিক ভবনে চার দিন আগে চালানো এক হামলায় ৬০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২০ জন শিশু। অনেকেই এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। তালায়ি-নিক আরও বলেন, ইসরাইল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকে থাকার সামর্থ্য রাখে না এবং এই সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ‘জায়নিস্ট শাসনের মেরুদণ্ড তত দ্রুত ভেঙে পড়বে।’

একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরান এবার প্রথমবারের মতো নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যা ইসরায়েল এখনও টেরই পায়নি।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছি এবং জায়োনিস্ট শাসন জানতেও পারেনি যে কী তাদের দিকে ধেয়ে এসেছে। এ রকম আরও চমক অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।’

মঙ্গলবার রাতে দশম ধাপে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর আগে সকালে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র নবম ধাপে ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানের কোডনেম রাখা হয়েছে ‘ইয়া আলী ইবনে আবি তালিব।’ এই হামলার পেছনে কারণ হিসেবে ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে সামরিক আগ্রাসন চালায়। যাতে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও বেসামরিক নারী-শিশু নিহত হন। ইরানের টানা পাল্টা আঘাতে বিপর্যস্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানায়, তারা ইরানি হামলার সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে, যাতে জনমনে আতঙ্ক না ছড়ায়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান বা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ইরানে। নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিক বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর ১০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। এই হামলায় অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী তেল আবিবের উপকণ্ঠ হের্জলিয়াসহ মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরিত হয়। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে এবং কিছু স্থানে আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পুরো ইসরায়েলে সতর্কতা সাইরেন বাজতে থাকে। উত্তর দিক থেকে শুরু করে দক্ষিণে নেগেভ অঞ্চলের বহু এলাকায়। জেরুজালেমের আশপাশেও সাইরেন শোনা গেলেও শহরের কেন্দ্রে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

হের্জলিয়ার কাছে একটি গুদামে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি পার্কিং লটে পড়ে, যেখানে একটি ফাঁকা বাস পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় পাঁচজন আহত হন বলে জানায় জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা এমডিএ।

ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্থান শনাক্ত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। রাতভর ইরান থেকে ছোড়া আরও প্রায় ৩০টি ড্রোনও ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরে প্রতিহত করা হয়েছে, তবে কয়েকটি ড্রোন গোলান হাইটসের ওপরেই গুলি করে নামানো হয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ইরান সরকার জানিয়েছে, তারা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে। ইরানি সংসদ এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, ইরান ১৯৬৮ সালে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যার আওতায় দেশটি পরমাণু অস্ত্র অর্জন বা তৈরির চেষ্টা না করার অঙ্গীকার করেছিল।

ইরান এখনও দাবি করছে তারা পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। তবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। এটি ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে গোপনে এগিয়ে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার সকালে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরানের অভ্যন্তরে ‘শাসকগোষ্ঠীর অবকাঠামো ও লক্ষ্যবস্তুর’ বিরুদ্ধে আজ আরও বড় ধরনের হামলা চালাবে। তার দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল অন্তত ১০টি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ‘ফোর্ডো’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা এত গভীর ভূগর্ভে নির্মিত যে- সেটিকে ধ্বংস করতে কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী বাংকার-বাস্টার বোমা প্রয়োজন, সেই স্থাপনাকেও তারা নজরে রেখেছে এবং ‘সেটিও অবশ্যই মোকাবিলা করা হবে’।

কাতজ সতর্ক করে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ীর ভাগ্য হতে পারে ইরাকের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনের মতো। যিনি ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর ক্ষমতাচ্যুত ও পরে ফাঁসিতে ঝুলেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমি ইরানের এই একনায়ককে সতর্ক করছি- ইসরায়েলি বেসামরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।

এই উত্তেজনার মাঝেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে একটি ‘বিস্তৃত আলোচনার দরজা’ খোলা হতে পারে। তিনি ট্রাম্পের আগভাগে জি৭ সম্মেলন ত্যাগকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলেও আখ্যা দেন। তবে ট্রাম্প ম্যাক্রোঁকে ‘পাবলিসিটি খোঁজার লোক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ম্যাক্রোঁর ধারণাই নেই কেন তিনি দেশে ফিরছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির চেয়েও ‘বড় কিছু’ তার ফিরে আসার কারণ।

এরই মধ্যে ইসরায়েল ঘোষণা দেয়, তারা ইরানে তাদের সামরিক অভিযান এখনও শেষ করেনি। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দেয় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলাগুলো ইরানি সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’আর জানান, অভিযান এখনও চলছে এবং তা সম্পূর্ণ শেষ করতে ইসরাইল কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে ইরান জানায় তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। তারা পারস্য উপসাগরের আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তার আবেদন করেছে এবং ট্রাম্পের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

জাতিসংঘে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানের হামলা ছিল প্রতিরক্ষামূলক এবং শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই শান্তি চায়, তবে ইসরায়েলকে আগ্রাসন থামাতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার রিফুয়েলিং বিমান ইউরোপে সরিয়ে নিয়েছে এবং ইউএসএস নিমিটজ বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, এই মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। যদিও একই সময়ে ডেমোক্র‍্যাট সিনেটর টিম কেইন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারেন।

এমন অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে এবং তাদের প্রতিক্রিয়াকে বৈধ বলেই দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-ইসরায়েল সবার সঙ্গে আলোচনায় আছেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির এক কর্মী সম্প্রচারের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। একইসঙ্গে ইরান জানায়, তারা ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানে আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েল পাল্টা জানায়, তারা ইরানের ‘গ্রাউন্ড-টু-গ্রাউন্ড’ ও ‘গ্রাউন্ড-টু-এয়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক অভিযানে ইসরায়েল ইরানের যুদ্ধকালীন প্রধান স্টাফ আলি শাদমানিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে। তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিহত ঘোলামালি রশিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।

এই অবস্থায় জি৭ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দেন। তারা অযৌক্তিকভাবে ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন দূতাবাস তেহরান ও জেরুজালেমে কার্যক্রম সীমিত করেছে। মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেই অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে, ট্রাম্প বলেন, তিনি চান ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথ পরিত্যাগ করুক এবং এই সমস্যা ‘বাস্তবিকভাবে শেষ’ হোক। তবে তিনি এটাও বলেন, ‘কেউই হামলা থামাচ্ছে না।’

তৌহিদুজ্জামান সোহান
সময়ের আলো/এমএইচ
১৮ জুন, ২০২৫

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ

আরও - জাতীয় সংবাদ