সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

June 4, 2026 6:08 pm

আম খাওয়ার পর যে ৫ খাবার খাবেন না

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো, সুস্বাদু আমের মৌসুম। এ মৌসুমে ইচ্ছেমতো আম খেতে কে না ভালোবাসে। তবে একটি প্রচলিত ধারণা আছে— আম খাওয়ার পর কিছু খাবার খেলে হজমের সমস্যা বা কোনো শারীরিক অসুবিধা হতে পারে।

দুধ
আম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, আম খাওয়ার পরপরই দুধ পান করলে বদহজম হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। আবার, আম-দুধ দিয়ে তৈরি ম্যাংগো শেক অনেক মানুষই খেয়ে থাকেন, যাদের কোনো সমস্যা হয় না। অর্থাৎ, এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

দই

দই ও আম উভয়ই পুষ্টিকর খাবার হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই সংমিশ্রণ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের গ্যাস, পেটব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আম খাওয়ার অন্তত কিছু সময় পরে দই খাওয়া ভালো।

ঝাল ও মশলাদার খাবার
আম খাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাদার খাবার খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হওয়ার দরুণ পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, অম্লতা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

কোমল বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়
আম নিজেই একটি মিষ্টি ফল। এর পরপরই সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে শরীরে একসঙ্গে অনেক বেশি চিনি প্রবেশ করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের জন্য ভালো নয়।

এমনকি আম খাওয়ার পরপর স্বাভাবিক পানিও পান করা উচিত নয়। কারণ, আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা হজম হতে কিছুটা সময় নেয়। তৎক্ষণাৎ পানি খেলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে, বদহজম, অ্যাসিডিটি, পেট ব্যথা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। আম খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত। খুব ঠান্ডা পানির পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করা উত্তম।

ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার


আম খাওয়ার পরপরই ভাজাপোড়া খাবার খেলে অনেকের হজমে সমস্যা হতে পারে। ফলের প্রাকৃতিক শর্করা ও ভারী তেলযুক্ত খাবারের সমন্বয় পাকস্থলীর জন্য কিছু ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর হতে পারে, ফলে পেট ভার লাগা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আম খাওয়ার পর এসব খাবার খেলে সবারই সমস্যা হবে— এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের হজমজনিত সমস্যা, অ্যাসিডিটি বা সংবেদনশীল পাকস্থলী রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলাই উচিত। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে খেলে আম হতে পারে গ্রীষ্মের সবচেয়ে উপকারী ও মজাদার ফলগুলোর একটি।

সময়ের আলো/আআ
৪ জুন, ২০২৬

 

আরও - স্বাস্থ্য সংবাদ

আরও - লাইফ স্টাইল সংবাদ