-
Facebook
-
Twitter
-
Linkedin
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকায় জাতিসংঘের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা
রোহিঙ্গা ইস্যূতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ দুই দিনের সফরে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্য রাতে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হওয়ার পর এটি বাংলাদেশে তার প্রথম সফর।
অন্যদিকে, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনকে কেন্দ্র করেই জাতিসংঘের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করছেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিশেষ দূত জুলি বিশপ রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরদিন সোমবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে যাবেন জুলি বিশপ। এই সময়ে তিনি শিবিরে পরিচালিত জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা যুবক, নারী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি আগামী ২৭ ফ্রেবুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। ইউএনএইচসিআরের শীর্ষ এই কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর পর বেশ কয়েক দফায় বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে ফিলিপ্পো গ্রান্ডি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা চলমান রেখেছে। গত ছয় মাসে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনসহ সংস্থাটির আরও কিছু কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেছেন। আগামী মার্চে জাতিসংঘের মহাসচিবের সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ চাওয়া, মিয়ানমারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই যেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়। আর এতে বিশ্ব সম্প্রদায়সহ জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা দেখতে চায় বাংলাদেশ। আগামী মার্চে সুইজারল্যান্ডে জেনেভায় রোহিঙ্গাদের জন্য জেআরপি ঘোষণা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে জাতিসংঘ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ দূত এবং শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সফরে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত সব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
সময়ের আলো/ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫