সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 6:56 am

আমের বাজারে ধস, প্রতি মণে ৫ কেজি ফ্রি 

আমের জন্য দেশবিখ্যাত রাজশাহীতে এবার আমের বাজারে ধস নেমেছে। অনেকেই বলছেন, এ বছর আমের ভরা মৌসুমে ঈদুল আজহা উদযাপন হওয়ায় আমের দাম ‘পড়ে’ গেছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বাগান মালিকদের কাছ থেকে এক মণ আম কিনলে উদ্বৃত্ত পাঁচ কেজি নিচ্ছেন ফ্রি আম। এতে করে বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, আমের জন্য রাজশাহীকে দেশবিখ্যাত বলা হলেও আমের প্রকৃত উৎপাদন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলাকেন্দ্রিক।

তাদের মতে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। উপজেলায় উল্লেখযোগ্য আমের মধ্যে গোপাল ভোগ, হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, তোতাপুরি, ফজলি ও আশ্বিনাসহ হরেক রকম গুটি এবং লক্ষণ ভোগ আম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর রাজশাহী অঞ্চলে আমের উৎপাদন খুবই কম থাকায় অনেক বেশি দামে আম কেনা-বেচা হয়েছে এবং এখানকার আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। এ দিক থেকে চলতি বছরে আমের উৎপাদন অনেক বেশি। এ কারণে দাম কমে গেছে।

তবে কেউ কেউ বলছেন, এ বছর আমের ভরা মৌসুমে ঈদুল আজহা উদযাপন হওয়ায় আমের দাম পড়ে গেছে। এ ছাড়াও সব ধরনের আম একসঙ্গে পেকে যাওয়াকেও কেউ কেউ দায়ী করছেন।

সরেজমিন রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, লকনা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, হিমসাগর ১৪০০-১৬০০টাকা, ল্যাংড়া ১২০০-১৩০০ টাকা, ফজলি ৮৫০-১০০০ টাকা এবং আম্রপালি ১৪০০-১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাগান মালিকরা বলছেন, এবার ঈদুল আজহা চলাকালীন লম্বা ছুটি হওয়ার কারণে মানুষ ঘরমুখী হওয়ায় ঢাকার বাজারে আমের দাম পড়ে গেছে। এ কারণে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছেমতো সুযোগ নিচ্ছে।

বাঘার আম বাগান মালিক আইয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, গত বছর সব ধরনের আম বিক্রয় হয়েছে ৪০ কেজি মণ হিসাবে। কিন্তু এবার আম ব্যবসায়ীরা এক মণ আমে ৫ কেজি (স্থানীয় ভাষায় ‘ঢলন’) অতিরিক্ত ফ্রি আম নিচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রকিবুল হাসান রকি, পুঠিয়া (রাজশাহী)
সময়ের আলো ডেস্ক/১৪ জুন, ২০২৫

আরও - জাতীয় সংবাদ