সেই ২০০০ সাল থেকে স্বচ্ছতার সাথে পথচলা...

May 16, 2026 11:42 am

একাই লড়ছে ইরান, আরব বিশ্ব নেই কেন?

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর কেঁপে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু বিস্ময় জাগিয়েছে আরেকটি দৃশ্য, তেহরান যখন আগুনের মুখে, তখন তার পাশে দাঁড়ায়নি মুসলিম বিশ্ব। একের পর এক রাষ্ট্র শুধু নিন্দা জানিয়েই দায়িত্ব সেরেছে। বাস্তবে, কেউই এগিয়ে আসেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে দুর্বল দেখতেই যেন বেশি আগ্রহী। কেননা, এই দেশগুলোর মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আর তারা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে দেখতে চায় না। তাই মুখে প্রতিবাদ করলেও বাস্তবে তেহরানকে একা ফেলে রেখেছে তারা।

চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক সানাম ভাকিল বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ইসরায়েলবিরোধী কথাবার্তা বললেও, ভিতরে ভিতরে ইরান দুর্বল হলেই খুশি হয় তারা। তাঁর মতে, কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই দেশগুলো দাঁড়িয়ে আছে-একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, আরেকদিকে প্রতিবেশী ইরান। কোনো একদিকে পুরোপুরি যেতেও সাহস পাচ্ছে না।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক করিম বিতার আরও জানান, এই হামলা শুধু ইরানকে নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করতে পারে। তাই এখন তারা দ্বিধায়।

এক সময় ইরানবিরোধী ছিল সৌদি আরব। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সবসময়ই উদ্বেগ ছিল রিয়াদের। ২০১৬ সালে তো সম্পর্কই ছিন্ন করে দেয়। পরে চীনের মধ্যস্থতায় গত বছর আবার সম্পর্ক জোড়া লাগানোর উদ্যোগ নেয়। তবুও এখনও সেই পুরনো আস্থাহীনতা রয়ে গেছে।

২০ জুন ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম সৌদি আরব নিন্দা জানায়। এরপর আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন সবাই একই পথে হাঁটে। কিন্তু এসব নিন্দা যে শুধু প্রতীকী, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বাস্তবে কেউই পাশে দাঁড়াতে চায় না।

আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে সিরিয়া থেকে। একসময় ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল বাশার আল-আসাদের সরকার। কিন্তু গত ডিসেম্বরে তার পতনের পর সিরিয়া থেকে ইরানি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে সিরিয়ার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য।

আর হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি-যারা তেহরানের আঞ্চলিক হাতিয়ার ছিল, তাদের অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গাজা, লেবানন ও ইয়েমেনে ধারাবাহিক বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে বহু অস্ত্রভাণ্ডার, নিহত হয়েছে অসংখ্য যোদ্ধা। ফলে বাস্তবে তেহরান এখন অনেকটাই একা।

এদিকে জর্ডান ও মিশর যাদের ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি আছে, তারা এই সংঘাতে একেবারেই জড়াতে চায় না। কারণ? একটাই, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এ দুই দেশ। সুতরাং, তারা বুঝে চলছে যেন নিজেদের স্বার্থে আগুনে ঘি না পড়ে।


সময়ের আলো ডেস্ক/২৩ জুন, ২০২৫

আরও - আন্তর্জাতিক সংবাদ

আরও - জাতীয় সংবাদ